শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে ধুঁকছে চার হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা

আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ) 
কিশোরগঞ্জের নিকলী, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম- এই চার হাওর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নানা জটিলতায় জর্জরিত। প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ ফাঁকা থাকা, ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট এবং আবাসন সমস্যার কারণে চরম ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ওয়াস ব্লক বিকল থাকায় অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাও  হুমকিতে রয়েছে।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ৩১টি ইউনিয়ন ও প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই চার হাওর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৯০টি এবং কিন্ডারগার্টেন ৫৩টি। মোট ৬২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। তবে ২৯০টি সরকারি স্কুলের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদই খালি রয়েছে ১৮২টিতে। সরকারি মঞ্জুরিকৃত ২৯০টি প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে মাত্র ১০৮ জন কর্মরত আছেন। অন্য দিকে এক হাজার ৫৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে ফাঁকা ১৬৫টি, যেখানে কর্মরত এক হাজার ৩৭৭ জন।
উপজেলা হিসাবে অষ্টগ্রামের ৮৩টি সরকারি স্কুলের মধ্যে ৫৩টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিকলীর ৬০টি স্কুলের মধ্যে ৩৩টি, ইটনার ৭২টি স্কুলের মধ্যে ৪৬টি এবং মিঠামইনের ৭৫টি স্কুলের মধ্যে ৫০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। চার উপজেলাতেই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে প্রশাসনিক ও দাফতরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে, ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 
শিক্ষকসঙ্কটের পাশাপাশি স্কুলগুলোর ভৌত অবকাঠামোও নাজুক। নিকলীতে অন্তত ১৫টি বিদ্যালয় ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হয়েছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টি বা দুর্যোগের দিন ছাড়া খোলা আকাশের নিচে বা গাছতলায় ক্লাস নেয়া হয়। এ ছাড়া অধিকাংশ স্কুলেই শিশুদের বিনোদন বা খেলার মাঠ নেই। ওয়াশরুম ও সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় হাওরের শিশুরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
এ দিকে নিকলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, ২০২২ সাল থেকে হাওর অঞ্চলের তিনটি উপজেলায় হাওর ভাতা চালু হলেও নিকলীর শিক্ষকেরা আজও তা পাননি। নিকলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক জানান, সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি মামলার রায় এসেছে, আশা করা যাচ্ছে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হবে। 
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষকসঙ্কটে পাঠদান বিঘিœত হওয়ার বিষয়টি সত্য। প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। অনুমোদন পেলেই পদায়ন শুরু হবে। পাশাপাশি বদলি ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষকের সঙ্কট কাটানো হবে।