
আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে সেবা নিতে এসে দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল চত্বর দালালমুক্ত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠানো হলেও তা ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।
উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বগুড়াসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। এই বিপুল জনসমাগমকে পুঁজি করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালদের একটি শক্তিশালী বলয়।
হাসপাতাল সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, শজিমেকের আশপাশে নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অবৈধ বেশ কিছু ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকান। এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ জন কর্মী প্রতিদিন ভোরেই হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীদের ভালো চিকিৎসক দেখানোর কিংবা দ্রুত পরীক্ষা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দালালদের মনোনীত ভুয়া চিকিৎসকরা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার নাম করে রোগীর স্বজনদের হাতে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অফিস সময় শেষ হওয়ার পর বিকেলে পুরো হাসপাতাল এলাকা কার্যত দালালদের দখলে চলে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে কম দামে ওষুধ কিনে দেয়ার কথা বলে স্বজনদের নিজস্ব ফার্মেসিতে নিয়ে সাধারণ ওষুধের তিন গুণ দাম হাতিয়ে নেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী হাসপাতালের দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা নিষিদ্ধ। অথচ শজিমেকের মাত্র কয়েক শ গজের মধ্যেই অন্তত সাতটি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে, যেগুলোর অনুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে চিঠি দিলেও বাস্তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: মনজুর-এ-মুর্শেদ বলেন, আমাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেসি (বিচারিক) ক্ষমতা না থাকায় সরাসরি দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সিভিল সার্জন ও রথ্যাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে আনসার সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে গেটপাস ছাড়া অনাকাক্সিক্ষত কোনো ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।







