
ইকবাল হোসেন লিমন বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি সঙ্কট ও অপ্রতুলতার সুযোগ নিয়ে চক্রটি অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল চত্বরে সরেজমিনে নতুন ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে ৮ থেকে ১০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহের জন্য নির্মিত একটি সরকারি ভবন দখল করে চালক ও সহযোগীরা নিজেদের কার্যালয় বানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইরে থেকে অন্য কোনো যানবাহন এলে এই চক্র বাধা দেয়। তা ছাড়া হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালালের বিরুদ্ধে কমিশন নিয়ে রোগীদের নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো ৩১ শয্যার উপযোগী মাত্র জ্বালানি বরাদ্দ পায়। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং ১৫ থেকে ২০ জন মুমূর্ষু রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সীমিত জ্বালানির কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিনে দু’বারের বেশি চলতে পারে না।
ফরিদপুর সদরের দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত ভাড়া প্রায় ৮০০ টাকা এবং জাইকা প্রকল্পের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে এক হাজার ২০০ টাকা। অথচ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান জানান, সরকারি জ্বালানি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের স্বার্থেই আপাতত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো চত্বরে রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে অচিরেই এগুলো হাসপাতালের বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে। পাশাপাশি চালকের নাম, ফোন নম্বর ও নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টাঙানোর উদ্যোগ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।







