
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: আবদুর রহমান রাঈদ ও সাফকাত তাসিন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাঈদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত সাফকাত তাহসিনের অভিযোগ, তাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তাদের বিরুদ্ধে প্যানেল গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সদস্য রাজেশ বাছাড় তার কলার ধরেন এবং সাহস নামে আরেকজন তাকে ঘুষি মারেন। তাকে রক্ষা করতে রাঈদ ও আশরাফ এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। একপর্যায়ে রাঈদকে ছাতা দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করা হয় এবং তিনি রাস্তায় পড়ে গেলেও মারধর চলতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তিনি আরো বলেন, ছাত্র সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন এমন শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত বলে তারা অবস্থান নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, এ অবস্থানের কারণে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। জুনিয়রদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেয়া, ভয়ভীতি দেখানো ও হলের আসন বাতিলের হুমকিও দিয়েছিলেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও সিকৃবি ছাত্রদলের সদস্য রাজেশ বাছাড় বলেন, ফ্যাকাল্টির সিনিয়র-জুনিয়রদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক নষ্ট করার লক্ষ্যে আশরাফের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ কয়েক দিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছিল। এর জেরে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশরাফ, সাফকাত তাহসিন, রাঈদ, ফজলে রাব্বিসহ তাদের অনুসারীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান এবং বর্তমান ভিপিকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তাদের উদ্দেশ্য জানার ও সমঝোতায় আসার জন্য বসতে আহ্বান করা হলে সাফকাত তাহসিন তেড়ে আসেন। পরে সিনিয়ররা তাকে থামাতে গেলে রাঈদ পেছন থেকে সিনিয়রদের গায়ে হাত তোলেন। তাকে ফেরানোর সময় রাঈদ রাস্তায় পড়ে যান এবং এ ঘটনায় তিনজন সিনিয়র শিক্ষার্থী আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এ টি এম মাহবুব-ই-এলাহী বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্র পরামর্শক, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য, আইন উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। কমিটি ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে সুপারিশ দেবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না এবং কে অপরাধী কে নয় তা নিরপেক্ষভাবে শনাক্ত করা হবে।







