
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শক্তিশালী সামাজিক সংলাপ, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং শোভন কর্মসংস্থান ও দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি করা।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্সের (আইওই) প্রতিনিধি দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।
প্রতিনিধি দলে আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে আপনাদের এই সফর এবং শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের সাথে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ, আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের অগ্রগতি, অর্জন এবং যৌথ কার্যক্রম বুঝতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দক্ষ নেতৃত্বে আমাদের সরকার শোভন কাজ, শ্রমিক কল্যাণ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে এবং সামাজিক সংলাপ, বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রম প্রশাসন শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং আমাদের অঙ্গীকারগুলোকে শ্রমিকদের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর করা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শ্রমিকের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুটিই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও সামাজিক অংশীদারিত্ব শিল্প শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে আমরা আগ্রহী।’
সাক্ষাৎকালে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রতিনিধিগণ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে (ইপিজেড) পৃথক আইনের পরিবর্তে সার্বিক শ্রম আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো: আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








