জাফলংয়ে বন্ধ ক্রাশার মিল বিপাকে ব্যবসায়ী-শ্রমিক
খোলা আকাশের নিচে অকেজো পড়ে আছে ক্রাশার মেশিনগুলো ছবি: নয়া দিগন্ত

আমির উদ্দিন গোয়াইনঘাট (সিলেট)
সিলেটের জাফলংয়ের কোয়ারি থেকে প্রায় এক দশক ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে ক্রাশিং মেশিনের কান ফাটানো শব্দ। এরপরও তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা এলসি পাথর ক্রাশিং করে কোনো রকমে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন পাথর ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে পরিবেশ রক্ষার নামে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর। 
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সরকারি নির্দেশনায় ক্রাশার মিলগুলোতে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। ফলে এ শিল্পে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বন্ধ হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী যন্ত্রপাতি পানির দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সাথে আমদানি করা পাথর ক্রাশিং বন্ধ থাকায় সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
সরেজমিন জাফলংয়ের বিভিন্ন ক্রাশার জোন ঘুরে দেখা যায়, একসময় কর্মচঞ্চল এলাকাগুলো এখন অনেকটাই নীরব। কোটি কোটি টাকা মূল্যের ক্রাশার মেশিনগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনের বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও লোহার কাঠামোর গায়ে জন্মেছে আগাছা। ব্যবসায়ীরা সাইট ভাড়া, পাহারাদার ও কর্মচারীদের ন্যূনতম খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিকভাবে আরো বিপাকে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বৈধভাবে আমদানি করা পাথরও ক্রাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পাথরভিত্তিক ব্যবসার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে পুরোপুরি স্থবিরতা।
ক্রাশার মিলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বেকার। শ্রমিক রহমান মিয়া বলেন, কোয়ারি বন্ধ হওয়ার পর ক্রাশার মিলে পাথর টেনে কোনোমতে সংসার চালাতাম। দুই বছর ধরে ক্রাশার মেশিন বন্ধ। এখন দিনে একবেলা খাই, দুই বেলা উপোস থাকি। ধারদেনা করতে করতে পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
নারী শ্রমিক মরিয়ম বিবি বলেন, ক্রাশার মেশিন বন্ধ হওয়ার পর তাদের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। এ কষ্ট দেখার কেউ নেই। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ, কাজ না থাকায় এখন আর সংসার চলছে না। ব্যবসায়ীদের অবস্থাও নাজুক। ব্যাংক ও স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে যারা ক্রাশার মিল স্থাপন করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। কেউ কেউ ঋণের চাপ সামলাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার অনেকে লাখ লাখ টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ ও লোহার সামগ্রী নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।