
আলজাজিরা
* আটকা পড়েছেন শতাধিক
* ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুদের চিৎকার
গাজা সিটিতে যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহনকারী একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, রাতের বেলা সাততলা ভবনটি ধসে পড়ে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো অনেকে। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকর্মীদের সাথে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও যাচাই করা ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য কান্নার শব্দ শোনা যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় একটি ছোট মেয়েকে উদ্ধার করা হচ্ছে। আরো কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ছোট শিশুও ছিল। কয়েকজনকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখা যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের সরিয়ে নেয়া হয়।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি এই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এর আগে ইসরাইলের একটি বোমা হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলায় ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয় এবং এটি কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটিই ধসে পড়ে। মাহমুদ বাসাল বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থান করছেন, যেগুলো তাদের ‘জীবনের জন্য হুমকি’। কারণ শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবে তাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে সরানো ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম প্রবেশেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে একই ধরনের ভবনধসের ঘটনায় উদ্ধারকর্মীদের বেশিরভাগ সময় হাতে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ আরো ধীর হয়ে পড়ছে। এদিকে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র । প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পানি সংগ্রহের জন্য পাত্র ভর্তি করতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ধসে পড়ার ঝুঁকিতে প্রায় ২ হাজার ভবন
গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণের পর একটি ছয়তলা ভবন ধসে পড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া লোকজনের ওপর। এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজের তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ জনই শিশু। আল-বুরশ আরো জানান, পুরো গাজাজুড়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর্যাপ্ত ও সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কংক্রিটের ভারী স্ল্যাবগুলো সরিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার মতো প্রয়োজনীয় কোনো ভারী যন্ত্রপাতি তাদের হাতে নেই।
জ্বালানি ও ওষুধ সঙ্কটে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসের মুখে
জ্বালানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সঙ্কটে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণ ধসের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘লজ্জাজনক নীরবতার’ সমালোচনা করে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইসরাইল চিকিৎসা সহায়তা গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য দিচ্ছে। বাস্তবে যে পরিমাণ সহায়তা প্রবেশ করছে, তা হাসপাতালগুলোর ন্যূনতম কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।







