
আল মায়াদিন
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বড় ধরনের বিধ্বংসী পরিস্থিতির চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ প্রকাশিত বেশ কিছু গোপন আলোকচিত্রে এই ক্ষয়ক্ষতির নানা তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের কড়াকড়ি সত্ত্বেও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ঘাঁটিগুলোতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর কয়েকজন সদস্য এসব ছবি পাঠান, যেখানে এ যাবত গোপন রাখা বহু সামরিক সরঞ্জামের ধ্বংসস্তূপ দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘বোয়িং ই-থ্রি সেনট্রি’ গোয়েন্দা নজরদারি বিমানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে বিমানটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বডি থেকে আলাদা হয়ে যায়, যেখানে মধ্যআকাশের গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণায়মান রাডারব্যবস্থা যুক্ত ছিল। ওই ঘাঁটির শক্তিশালী কনক্রিটের নিরাপত্তা প্রাচীর ভেদ করে বিমানঘাঁটির অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু স্থাপনা ও আবাসন ব্লক আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একইভাবে কুয়েতের ‘ক্যাম্প বুহরিং’-এ হামলা চালিয়ে বহু সামরিক যান ও ট্রেইলার ধ্বংস করা হয়েছে। ঘাঁটিতে কর্মরত এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গোপন রাখা হলেও বাস্তবে তাদের অবস্থা অত্যন্ত অসহায় ছিল। ১ মার্চের হামলায় কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ছয় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনাকে মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ সামান্য বললেও, ঘাঁটির সেনাসদস্যরা সেই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, আত্মরক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই তারা, বরং চোখের সামনে ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হতে দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের রিপোর্টে ৬০টির মতো যুদ্ধবিমান ও ড্রোনসহ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতির আনুষ্ঠানিক সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্দানের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিতেই ধারাবাহিক ইরানি আঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।







