যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ইসরাইলের অনুগত হতে পারে না : ভ্যান্স

টাইমস অব ইসরাইল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিজস্ব লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হতে পারে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের নীতি কোনোভাবেই ইসরাইল সরকারের ‘অধীনস্থ বা অনুগত’ হতে পারে না। ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ আর ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশ নীতি সবসময় অভিন্ন রেখায় নাও চলতে পারে। ‘অল-ইন পডকাস্ট’ আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিল দিকগুলো উন্মোচন করে বক্তব্য দেন ভ্যান্স। সামরিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে ইসরাইলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি বলেন, “প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা খাতে ইসরাইল আমাদের এক বড় অংশীদার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তাধারার কৌশলগত পার্থক্য দেখা দেয়।”
বিগত চার দশকের মার্কিন মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের ভূমিকার সমালোচনা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বতন্ত্র অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভ্যান্স। তিনি উল্লেখ করেন, “গত ৪০ বছরের যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীন পদক্ষেপ নেয়ার সবচেয়ে বেশি সাহস দেখিয়েছেন। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প অনুভব করেছেন, মার্কিন নাগরিকদের কল্যাণ ও ইসরাইল প্রশাসনের এজেন্ডা ভিন্ন পথ ধরেছে।” ট্রাম্পের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো যুক্ত করেন, “বিগত ৪০ বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি সরাসরি বলতে পেরেছেন, নেতানিয়াহু একজন ভালো মিত্র হতে পারেন কিন্তু অমুক বিষয়ে আমি তার সাথে একমত নই। তিনি স্পষ্ট জানাতে পেরেছেন যে নেতানিয়াহু ভুল করছেন কিংবা ইসরাইলের দৃষ্টিতে তার সিদ্ধান্ত ঠিক হলেও মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটনকে অন্য পথ বেছে নিতে হবে।” ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো বৈশ্বিক মিত্রতার মতো ইসরাইলের সাথে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত কেবলই আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ এবং যৌক্তিক আলোচনার এটিই একমাত্র রাস্তা। মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের পাশাপাশি ন্যাটো জোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি একই মতামত ব্যক্ত করে জানান, ইউরোপবিষয়ক নীতিকে যেমন ন্যাটোর কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করা যায় না, ঠিক একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতিকেও ইসরাইল রাষ্ট্রের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া যায় না। মার্কিন প্রশাসনের চালিকাশক্তিতে নিজ দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যাদের সাথে সমন্বয় দরকার আমরা তা করব এবং যেখানে পার্থক্য দেখা দেবে সেখানে দ্বিমত স্পষ্ট থাকবে। আমরা কেবল আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবো, কারণ যৌক্তিক পররাষ্ট্রনীতি চালনার এটাই একমাত্র কার্যকর রূপ।”