
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রহার ও যেকোনো ধরনের মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশের সর্ববৃহৎ কওমি শিক্ষা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ (বেফাক)। পাশাপাশি কোনো শিক্ষক এ ধরনের আচরণে যুক্ত থাকলে কিংবা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার ইলহাক (অধিভুক্তি বা স্বীকৃতি) বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় মাদরাসার করণীয়’ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণ, কোনো অবস্থাতেই রাগ বা ক্ষোভের বশে কোনো বিচার, শাসন কিংবা সাজা প্রদান করা যাবে না। যেসব শিক্ষার্থী পড়ালেখায় অমনোযোগী কিংবা উশৃঙ্খল, তাদের প্রহার না করে সরাসরি অভিভাবকদের অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই হাত-পা, লাঠি, বেত, স্কেল কিংবা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে শরীরে আঘাত করা যাবে না।
আরো পড়ুন—অনাবাসিক পদ্ধতিতে যেভাবে মাত্র ২৬ দিনেই হাফেজ হন ১৪ বছরের কিশোর মুহান্নাদ
মানসিক শাস্তির বিষয়েও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বলা হয়, প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটু ভাষা ব্যবহার কিংবা হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিক নির্যাতন পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। কোনো শিক্ষক এই সীমা লঙ্ঘন করলে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় আবাসিক মাদরাসাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুই থেকে তিনজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বেফাক। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে অনধিক সাত দিনের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত ইতিহাস, চরিত্র ও নৈতিকতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূর্বে নৈতিক স্খলন বা অপরাধে জড়িতদের কওমি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বোর্ডটি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








