এইচএসসি ফলাফল
জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নয়া দিগন্ত

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের এবার ৪৯টি কলেজ থেকে কেউ পাশ করেনি। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ফেল করেছে নীলফারীতে ১২টি। সব থেকে শতভাগ ফেল কম গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে দুইটি করে। 

Advertisement

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষন করে এই তথ্য মিলেছে। ফলাফলে দেখা যায় সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা প্রতিষ্ঠান ২৯৩টি। এর মধ্যে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে শতভাগ ফেল করেছে ৪৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে। এর মধ্যে  নীলফামারীতে ১২টি, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে নয়টি করে, দিনাজপুরে ও লালমনিরহাটে ছয়টি করে, রংপুরে তিন, গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ে দুইটি করে কলেজ রয়েছে। 

নীলফামারীর শতভাগ ফেল করা ১৫টি কলেজর মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জের ভেরবাড়ি মাঝপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নয়ান খাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদরের  আদর্শ কলেজ, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তারানীবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ,  ডোমারের জামিরবাড়ী মহিলা মহাবিদ্যালয় ও বাগতোকরা নিমোজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলঢাকার সমির উদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডিমলার আদাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও গায়খাড়ীবাড়ী উইমেন্স কলেজ। 

কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রৌমারী চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ, নাগেশ্বরীর নাগেশ্বরী মডেল কলেজ, কুটি প্যারাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও  চিলাখানা মডেল কলেজ, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পূরো গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিলমারীর দক্ষিণ খৌরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজারহাটের পাঙারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিঙ্গার ডাবড়ীহাট কলেজ ও সিঙ্গার ডাবড়ীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

ঠাকুরগাঁওয়ের শতভাগ ফেল করা ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বালিয়াডাঙ্গীর হরিণ মারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোরোল হাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রত্নাই বাগুলা বাড়ী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদরের কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সালারদর উইমেন্স কলেজ, রানীশংকৈলের ধুলঝাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোগড় কলেজ ও রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং পীরগঞ্জের একতিয়ারপুর শহীদ সালাহউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

লালমনিরহাটের শতভাগ ফেল করা চয়টি কলেজের মধ্যে রয়েছে হাতিবান্ধার  হাতিবান্ধা মডেল কলেজ ও আমিনুর রহমান কলেজ, কালিগঞ্জের সোনাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ  ও দূহুলী এস. সি. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আদিতমারীর গন্ধমারুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

দিনাজপুরের শতভাগ ফেল করা ছয়টি কলেজের মধ্যে রয়েছে বীরগঞ্জের কবিরাজ হাট কলেজ ও  সোনকা আদর্শ কলেজ, ফুলবাড়ির উত্তর লক্ষ্মীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিরামপুরেরবেপারীটোলা আদর্শ কলেজ এবং হাকিমপুরের পৌষগাড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ।  

রংপুরের শতভাগ ফেল করে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েঠে পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ উইমেন্স কলেজ ও আমদপুর কলেজ এবং পীরগাছার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

পঞ্চগড়ের দুইটি শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান হলো  বোদার  বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তেতুলিয়ার আলহাজ তমিজ উদ্দিন কলেজ, গাইবান্ধার দুইটি শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান হলো পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজ এবং সাঘাটার জুম্মারবাড়ী মহিলা কলেজ।

গত বছর এই বোর্ডে শতভাগ ফেল করা কলেজের সংখ্যা্র ছিল ৪৩টি। এই সংখ্যা ২০২৪ এ ছিল ২০টি, ২০২৩ এ ছিল ১৬টি, ২০২২ এ ছিল ১৩টি, ২০২১ এ ছিল দুইটি এবং ২০২০ এ ছিল শূণ্য।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে শতভাগ ফেল করা কলেজের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে পার্শ্ববর্তী কলেজের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাসের চিন্তা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক কলেজ গড়ে উঠেছে। সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া সম্ভব নয়। তবে সীমিত পরিসরে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের চাকরি যাবে না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেন।’