
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদের রক্ত মাটিতে শুকাতে না শুকাতেই শেখ হাসিনা আওয়াজ দিচ্ছেন—তিনি নাকি দেশে আসবেন! হত্যাকরী আওয়াজ দিচ্ছেন। তিনি আসতে পারেন, কিন্তু এই দেশের সরকার, এই দেশের আইন-আদালত—যে অঙ্গীকার ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবার আইনের শাসন—সেই আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।
রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে’ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল আয়োজিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
আরো পড়ুন—দোয়া-ইবাদাত নিয়ে বিদ্রুপ : ভাইরাল সিদ্দিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, অসংখ্য রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেল তার আমলে। গ্রামে-গঞ্জে, খেতে-খামারে নতুন করে উৎপাদন শুরু হলো। মাইলের পর মাইল খাল কাটলেন। দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠল এবং কল-কারখানার চাকা আবার ঘুরল। ফসলের মাঠে উৎপাদন বৃদ্ধি পেল কয়েক গুণ; কারণ খালকাটাসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এত ভালো হলো যে জনগণ মনে করত। দরজা খুলে ঘুমানো যেত জিয়াউর রহমানের কারণে। এই যে গ্রাম পুলিশ, গ্রামে-গঞ্জে গ্রাম পুলিশ—কার সৃষ্টি? জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। মহিলা পুলিশ কার সৃষ্টি? জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি। গ্রামগঞ্জ থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটল। কিন্তু কুচক্রীরা, ষড়যন্ত্রকারীরা তো বসে থাকে না। এ দেশের এক শ্রেষ্ঠতম দেশপ্রেমিককে হত্যা করল।
তিনি বলেন, জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্যে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আসলেন, আবার গণতন্ত্র হত্যা। তারই সহধর্মিনী বেগম জিয়া নয় বছর আন্দোলন করে ১৯৯০-এ গণতান্ত্রিক শক্তি এনেছেন। বিরোধী শক্তি এসেছে, জনগণকে দাবিয়ে রেখে অন্য কোনো দেশের আধিপত্যের মধ্যে দেশকে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই আধিপত্যবাদের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেই বিপ্লব, সেই বিপ্লবই হচ্ছে ৭ নভেম্বর। সেই বিপ্লব হচ্ছে সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস।
রিজভী বলেন, ২০২৪ সালে আবার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ। ওই ৭২-৭৩-এ যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার কন্যা এক ভয়াবহ দুঃশাসন চালু করলেন। রাষ্ট্রের চরিত্রই দিয়ে দিলেন গুম, খুন আর গুপ্তহত্যার। বাংলাদেশের চেহারা মানেই একটা ভয়ঙ্কর চেহারা—এখানে গুম হয় বিরোধী দল, এখানে খুন হয় বিরোধী দল, এখানে ক্রসফায়ার হয় তরুণরা, শ্রমিকরা। শেখ হাসিনার রাজত্ব, তাই আবার জনগণ সেই তরুণরা, সেই ছাত্ররা, সেই শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, জনগণ নিজের রক্ত দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটালো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পেছনের প্রেরণা হচ্ছে ৭ নভেম্বর। ৭ নভেম্বরের মধ্যে মানুষ যেভাবে জেগে উঠেছে, সেই জেগে ওঠার দিন ৭ নভেম্বর। সেই জেগে ওঠা বরাবর জেগে উঠেছে মানুষ, ঠিক সেভাবে ৯০-এ জেগে উঠেছে, ঠিক সেভাবে জুলাইয়ে জেগে উঠেছে ২০২৪ সালে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তিনি নাকি চলে আসবেন ডিসেম্বরে। তাহলে আবু সাঈদদের শহীদ করলেন, আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করালেন, এই অপরাধ, এই পাপ, এই হত্যার আপনার কি বিচার হবে না? মাঝে মাঝে আওয়াজ হ্যায় হিন্দুস্তান দিচ্ছে, এই নেমে পড়বেন? কোথায় নামবেন? প্যারাশুটে নামবেন না হেলিকপ্টারে? কোথায়? ঢাকায় নামবেন না গোপালগঞ্জে? এইটা একটু বলে দিন, কোথায় নামবেন ? আর ওই শহীদের রক্ত মাটিতে শুকাতে না শুকাতেই আপনি আওয়াজ দেন? আপনি নেমে পড়বেন আর কোর্ট-কাচারি, আদালত—একজন হত্যাকারী, তিনি আওয়াজ দেন তিনি আসবেন। আসতে পারেন, কিন্তু এই দেশের সরকার, এই দেশের আইন-আদালত—যে অঙ্গীকার ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবার আইনের শাসন—সেই আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।
ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, উনি বলেছিলেন ‘শেখ হাসিনা না থাকলে নড়াইল থাকবে না।’ নড়াইল কি নাই বাংলাদেশে এখন? এই সমস্ত চামচা, তাবেদার, উমেদার, মুসাহেবদের দিয়ে তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি একটাই ভুল করেছেন, অনেকগুলোই ঠিক করেছিলেন। মনে করেছেন যে, একটার পর একটা তিনি সাকসেস হচ্ছেন, বিনা ভোটে তিনি নির্বাচন করছেন বারবার থাকছেন। একটা তিনি ঠিক মাপতে পারেননি, ভুল করেছেন—জনগণের শক্তি। জনগণের শক্তি এটা যেকোনো মুহূর্তে জেগে উঠতে পারে, এটা তিনি কখনো ভাবেননি, এটা কখনো তিনি চিন্তা করেননি। এই ভুল করার কারণেই তার নির্লজ্জ পতন হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








