ছেলে কৃষি কর্মকর্তা, বাবা পেলেন সার ডিলারশিপ
বাবার সাথে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ। ফাইল ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাবার প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলারশিপের সুপারিশ করার অভিযোগ ওঠেছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে। একইসাথে উপজেলার নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। জানার পর তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাতিয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বাবা মো: আব্দুল বাতেনের মালিকানাধীন মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজকে সার ডিলারশিপ দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: আব্দুল বাতেন বিষয়টি স্বীকার করে জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বাবার প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপের সুপারিশ করিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হাতিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: মনির উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের আকতার হোসেনের ওয়াসিম ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সার ডিলারশিপ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মনির উদ্দিন বলেন, সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। সেই হিসেবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট। এতে আট থেকে ১০ মেট্রিক টনের বেশি সার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়নপত্রেও এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

মনির উদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সার ডিলারশিপের জন্য সুপারিশ পায়? তার অভিযোগ, সার পাচারকারীদের সাথে যোগসাজশ এবং অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা পছন্দের ব্যক্তিদের নামে ডিলারশিপের সুপারিশ করেছেন।