জাপানের পতাকা
জাপানের পতাকা। সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় পর জাপানে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) এ ঘোষণা দেয়। 

Advertisement

তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায় আপাতত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে ব্যাংকটি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যপতনের প্রবণতা বা মুদ্রাসঙ্কট কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে জাপানের বিভিন্ন সরকার। মূল্যপতন বলতে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য ও সেবার দাম কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাপকভাবে মুদ্রানীতি শিথিল করার উদ্যোগ নেয় ব্যাংক অব জাপান।

২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে কয়েক দফায় মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও শুক্রবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এখন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিত্তিগত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি এখন ২ শতাংশ মূল্যস্থিতিশীলতার লক্ষ্যমাত্রার সাথে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ হার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

তবে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যপতনের যুগের অবসান ঘোষণা করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গত সপ্তাহে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’

ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাকাইচির সরকার। 

এতে সুদের হার কম রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

এদিকে ব্যাংক অব জাপান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট-এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা মূল সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় আগামী ডিসেম্বর মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের বসন্তকাল থেকে জাপানে ধারাবাহিকভাবে ভোক্তামূল্য বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ বছর ধরে চলা অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে ২০২৪ সালের মার্চে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাংক অব জাপান।

সরকারের গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাপানের মূল মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা ভোক্তা মূল্যসূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের উল্লেখযোগ্য ওপরে উঠতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যতম। এতে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সেমিকন্ডাক্টরের দামও বাড়ছে।

এছাড়া জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়নও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘সুদের হার আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই বেশি। আমাদের ধারণা, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরপরও সুদের হার বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’

সূত্র : বাসস