ভারত, বিক্ষোভ দমন, পুলিশ নাস্তানাবুদ, কৌশল বদল, তরুণ
বিক্ষোভকারীদের টেনে বাসে তোলার সময় তাঁদের একে অপরকে আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখা গেছে। সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও দমে যাননি তরুণেরা। পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে কখনো অন্য জায়গায় আকস্মিক বিক্ষোভ করছেন, কখনো আটক বিক্ষোভকারীদের খুঁজে বের করে তাঁদের সহায়তায় ছুটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষ শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে পুলিশের অভিযানের মুখেও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

Advertisement

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এএফপির বরাতে জানায়, ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হলেও তাঁদের অনেককে পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ বিক্ষোভ করে পুলিশকে চমকে দিচ্ছেন।

Advertisement


৩৬ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা মেঘনাদ এস প্রায় ১৭০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে আটক ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ করছেন। স্মার্টফোনের সাহায্যে পুলিশের গাড়ির গতিবিধি অনুসরণ করে আটক ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করেন তাঁরা। এরপর স্বেচ্ছাসেবী চালকদের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের সেখানে পাঠানো হয়। চালকদের গাড়িতে খাবার, পানি ও জ্বালানি আছে কি না, তাও নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজন হলে তাঁদের সাথে চিকিৎসকও যান।

বলুন তো কে আসল কে নকল নেহা বোরা!

 

নজরদারি এড়াতে নানা কৌশল নিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষার্থী নেতা ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরার মতো দেখতে আরেক নারীকে ভুল করে আটক করেছিল পুলিশ। আসল নেহা নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে মধ্য দিল্লির দিকে ছুটে গেলেও শেষ পর্যন্ত আটক হন। পরে নিজের মতো দেখতে ওই নারীর সাথে ছবি দিয়ে তিনি রসিকতা করে লেখেন, তাঁদের সাদৃশ্য ‘কৌশল নয়, নিছক কাকতালীয়’। নেহা বোরার টিম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সতর্ক করে বলেছে, দিল্লি পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহার করছেন।

দিল্লি পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহার করছেন

 

রাস্তায় তরুণ বিক্ষোভকারীদের ধরতে গিয়েও হিমশিম খেতে দেখা গেছে পুলিশকে। এক বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের বড় বড় ভুঁড়ি,  দৌড়ানোর দম পায় না।'  মাত্র ৫০ মিটার দৌড়ালেই পুলিশ হাঁপিয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের টেনে বাসে তোলার সময় তাঁদের একে অপরকে আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখা গেছে। পরে কেউ কেউ চালকের আসন কিংবা পেছনের জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচয় গোপন রাখতে কয়েকজন ব্যাটম্যানের মুখোশও পরেছেন।

বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা রোববার নিজের মুখে মেকআপ লাগিয়ে নজরদারি এড়ানোর কৌশল দেখান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘প্রিয় বিক্ষোভকারীরা, আপনাদের সম্মতি ছাড়াই যখন ভিডিও করা হচ্ছে, তখন নজরদারি ও মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এড়াতে মেকআপ

বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডার সচিত্র পরামর্শ

 

ব্যবহার করে দেখতে পারেন। মুখে বাড়তি একটি চোখ বা এক জোড়া ঠোঁট এঁকে নিন। ত্বকে রঙের সাহায্যে ছদ্মবেশের নকশা আঁকুন। প্রয়োজন হলে ভ্রু ঢেকে দিতে কনসিলার ব্যবহার করুন।’