
ব্যাংকিং খাতের ভয়াবহ সঙ্কটের ঘটনায় প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। একই সাথে শনিবার তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ব্যাংক ধসের ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
প্যারাগুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট পেনাকে শুক্রবার সিনেটের সিদ্ধান্তে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা থাকা দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ধসে পড়ার মাত্র তিন দিন পর এ ঘটনা ঘটে।
পেনা নিজেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ফলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে যে আইনি দায়মুক্তি তিনি পেতে পারতেন, অভিশংসনের কারণে তা হারান।
দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে শনিবার তাকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের সামনে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
পেনার শুনানি শেষে বিচারক হার্নান ওতাজু সাংবাদিকদের জানান, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে আসুনসিওনের যে স্থাপনায় নেয়া হয়েছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে।
পেনার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইউএনও ব্যাংক এসএ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও পেনশন তহবিল থেকে আমানত ও ঋণ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’ একই সাথে ব্যাংকটির মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
৬৫ লাখ জনসংখ্যার প্যারাগুয়ের প্রায় অর্ধেক মানুষের হিসাব রয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউএনও ব্যাংকে। এই ব্যাংকের সাথে পেনার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
৪৭ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ পেনা গত বছর বিক্রি করে দেয়ার আগপর্যন্ত ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনও হোল্ডিংয়ের শেয়ারধারী ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা পেনা এবং একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান কার্লোস কারভালোর সম্পদ জব্দ করার আবেদন জানিয়েছেন।
বিচারক ওতাজু জানান, শুনানির সময় পেনা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
শুক্রবার সিনেটে দ্রুতগতিতে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হন পেনা। ওই রাতে তিনি আটক অবস্থায় কাটান।
এদিকে, তাকে সাধারণ কারাগারে পাঠানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনের বাইরে জড়ো হন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের কাছে ৩৩ বছর বয়সী আইনজীবী মাকারেনা চিলাভের্ত এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে কারাগারে দেখতে চাই। পেনাকে কারাগারে পাঠাতে হবে।’
পেনার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। তিনি ইউএনও ব্যাংকের পতনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে পেনশনভোগীরাও রয়েছেন।
পেনার ক্ষমতাচ্যুতির খবরে আসুনসিওনের রাজপথে অনেক মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে ডানপন্থী কলোরাডো পার্টির নেতা আলিয়ানার ক্ষমতা গ্রহণের খবরে ক্ষুব্ধ হন কিছু বিক্ষোভকারী।
এডসন ভাসকেজ এএফপিকে বলেন, ‘তিনি তো একই দলের লোক। ইউএনও ব্যাংকের সমস্যার কথা তিনি জানতেন।’
সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের হিসাব পরিচালনাকারী ইউএনও ব্যাংকের পতনে সাধারণত স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত প্যারাগুয়ের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউএনওর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তাদের আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা আমানতকারীদের একটি অনির্দিষ্টসংখ্যক অংশকে আগাম অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে।
পেনার ক্ষমতাচ্যুতি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মাসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন।
পেনার মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন আলিয়ানা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








