
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশালাকৃতির বিজয়-তোরণ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতের এ আদেশ আসে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি সরকারি কমিশন প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছিল। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মামলাটির দায়িত্বে থাকা জেলা বিচারক তানিয়া চুটকান রায় দিয়েছেন যে প্রকল্পটির আইনগত বৈধতা নিয়ে আদালতের পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই সপ্তাহ তোরণটির নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন (এনসিপিসি) ৮-৪ ভোটে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। তবে অনুমোদনের আগে কমিশনের শুনানিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কয়েক ডজন ক্ষুব্ধ বিরোধী ব্যক্তি প্রকল্পটির বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তোরণটির নির্মাণস্থল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৫০ ফুট (৭৬ মিটার) উচ্চতার বিশাল এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্মৃতিবিজড়িত আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির পাশে। এটি এমন একটি সমাধিক্ষেত্র, যেখানে কয়েক লাখ মার্কিন সেনাসদস্য চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।
প্রস্তাবিত বিশালাকৃতির এই তোরণটি প্যারিসের বিখ্যাত ‘আর্ক দে ট্রায়ম্ফ’-এর চেয়েও অনেক বেশি উঁচু হবে। স্থাপনাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে ওই স্মৃতিসৌধটিকেই আদর্শ হিসেবে ধরা হয়েছে। এছাড়া পটোম্যাক নদীর ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থিত লিংকন মেমোরিয়ালের চেয়েও এটি অনেক উঁচু হবে।
কমিশনের চারজন বিরোধী সদস্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আরো সময় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, প্রকল্পটির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। স্মারকটি সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে দাবি করেছেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণাধীন কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তারা দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু করতে চায়।
কিন্তু কয়েকজন সাবেক সেনাসদস্য এবং ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রকল্পটির নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেন। বিচারক চুটকানের আদেশে তাদের দাবির পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে।
‘অবৈধ প্রকল্প’
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের ব্যক্তিগত ছাপ রেখে যেতে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা। এ প্রকল্পের জন্য প্রেসিডেন্টের বাসভবনের একটি পুরো অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি বন্ধে করা মামলার বাদী মামলা করার আইনগত অধিকার রাখেন না বলে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন।
এছাড়া ন্যাশনাল মলের বিশাল আয়তাকার জলাধার রিফ্লেক্টিং পুল বারবার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।
ঐতিহাসিক ওয়াটারফ্রন্ট গলফ কোর্স ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসেরও ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে শত শত গাছ কাটার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে আদালতের হস্তক্ষেপে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
প্রস্তাবিত বিজয়-তোরণ নির্মাণের স্থানটি বর্তমানে ঘাসে ঢাকা একটি সড়কচত্বর। প্রকল্পটির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তির ক্ষেত্রে এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পের সমর্থকদের দাবি, এক শতাব্দীরও বেশি আগে কংগ্রেস ওই স্থানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল।
তবে সে সময়ের পরিকল্পনায় বিশাল তোরণ নির্মাণের কথা ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়কার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে দু’টি বড় স্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
শুনানিতে ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি বক্তব্য দেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়ে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রায় সর্বসম্মতভাবে নিজেদের আপত্তি ও বিরোধিতার কথা জানান।
শুনানির শুরুতে বক্তব্য দেন কংগ্রেসম্যান জ্যারেড হাফম্যান। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য।
তিনি বলেন, ‘এই তোরণটি যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের আদর্শ ও আমাদের আইনকে অসম্মান করবে।’
প্রকল্পটির নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদাররাও আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেন তিনি।
হাফম্যান বলেন, ‘এই অবৈধ প্রকল্প এগিয়ে নিতে যেসব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমার আহ্বান— এ কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কারণ, আপনারা হয়তো শুনেছেন, শিগগিরই আমাদের নতুন কংগ্রেস আসছে, যারা আইনের শাসনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।’
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় নতুন কংগ্রেস গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)







