
যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস ও সিনেট—উভয় বিভাগেই ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয় ছিল বেশ নাটকীয়। তবে 'দ্য ডিপ ডাইভ'-এর চলতি সপ্তাহের পর্বে উপস্থাপক জেকবস ল্যাজনিক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদক শির পেরেটস দাবি করেছেন যে, ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক সংকেতটি এসেছে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জিপির (রিপাবলিকান পার্টি) কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের ফিরিয়ে আনার জন্য চারটি কৌশল তালিকাভুক্ত করেছেন : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতিতে মনোযোগ দেওয়া, 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি বাস্তবায়ন করা এবং 'ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।' আর এর সাথেই যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত ঘোষণা—যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমান সমঝোতা স্মারক-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু আগেই, ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।
ল্যাজনিক বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ জেরুসালেমকে পুরোপুরি অপ্রস্তুত ও হতবাক করে দিয়েছে। নবনির্বাচিত ইসরাইল-বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার লক্ষ্যবস্তু কি তবে ভুল জায়গায়? ল্যাজনিকের ভাষায় বলতে গেলে, সতর্কবার্তার এই ঘনঘন ধ্বনি 'আসলে ঘরের ভেতর থেকেই আসছে।'
অনুষ্ঠানের আলোচনাটি কেবল আশঙ্কাজনক শিরোনামের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে মনোযোগ দেয়। পেরেটস অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম সদস্য ইসরাইলের স্পষ্ট বিরোধী, আর ট্রাম্প তো নিজেকে 'মিস্টার ভেটো' হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সহায়তা হিসেবে পাওয়া ৪ বিলিয়ন ডলার কীভাবে ঘুরেফিরে আমেরিকান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই চলে যায়—তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উপহার কার্ডের একটি চমৎকার উদাহরণ টেনেছেন।
চলতি এই পর্বটিতে ল্যাজনিক ও পেরেটস উভয়ই তাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো নিয়ে দারুণ খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তারা এমন কিছু রাজনৈতিক বাকপটুতা ও বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন যা ২০১৬ সালের আগে কারো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেই অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন, যেখানে স্কট উইনারের মতো একজন প্রগতিশীল নেতাকেও গাজা যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলতে দেরি করায় ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আর এই পর্বের অন্যতম তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে পেরেটস বলেন, ইসরাইল তার সমস্ত ডিম রিপাবলিকানদের ঝুড়িতে রাখেনি; বরং নেতানিয়াহু নিজেই ট্রাম্পের সাথে 'একটি শামুকের মতো নিজেকে আটকে রেখেছেন।'
এই পর্বের সবচেয়ে জরুরি অংশটি ছিল ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণ এবং জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপটে, ল্যাজনিক এবং পেরেটস ছক কষে দেখিয়েছেন যে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের হাতে একতরফাভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কতটা কম সময় বাকি আছে। তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে লড়াইয়ের আরেকটি পর্ব যদি শুরু হয়, তবে তা কেন দ্রুতই সংঘটিত হতে পারে; এবং যে প্রেসিডেন্ট ইরানকে শেষ করার কারিগর হিসেবে নিজেকে ইতিহাসভুক্ত করতে চান, তার জন্য পরিস্থিতি সামলে বেরিয়ে আসার পথটি কেমন হতে পারে।
তাদের অপ্রত্যাশিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি হলো—ওয়াশিংটন এবং জেরুসালেম উভয় স্থানে ক্ষমতার এই পরিবর্তন দুই দেশের সম্পর্ককে শেষ করে দেওয়ার বদলে বরং একটি নতুন সূচনার পথ তৈরি করতে পারে।
সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








