যুক্তরাষ্ট্র, আফগান শরণার্থী, পাকিস্তান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আফগান শরণার্থী শিশু। ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এমনকি এসব শরণার্থীকে পাকিস্তান পরে তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠাতে পারে- এমন উদ্বেগ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এমন কাজ করতে যাচ্ছে।

Advertisement

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ডিপোটেশন ফ্লাইটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হতে পারে।

কাতারের ‘ক্যাম্প আস সাইলিয়া’-তে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অব্যাহত অনিশ্চয়তার মধ্যেই এ পরিকল্পনাটি সামনে এলো। মার্কিন সরকার ইতোমধ্যে এই কেন্দ্র থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়িয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল যে ৩১ মার্চের মধ্যে ওই কেন্দ্র থেকে সব আফগানকে সরিয়ে নেয়া হবে, তবে পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যাম্পটি বন্ধের সিদ্ধান্ত আরো নয় মাসের জন্য পিছিয়ে দেয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ক্যাম্প আস সাইলিয়া’ থেকে আফগান শরণার্থীদের ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করেছিল, যেখানে সেই সময় ইবোলা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।

আফগানদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর এই আশঙ্কা মানবাধিকারকর্মী ও আটকে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে করে এসব শরণার্থীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আফগান শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় কর্মরত সংগঠন ‘আফগানইভ্যাক’ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ডিপোটেশন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে।

সংগঠনটি অভিযোগ করে বলে, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে যখন সাধারণ মানুষের নজর নিবদ্ধ, ঠিক তখনই প্রশাসন এই ডিপোটেশন ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছে- ‘এই আশায় যে বিষয়টি কেউ খেয়াল করবে না।’

সংগঠনটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ‘এই বিমানগুলো কোথায় গিয়ে নামবে, সরকার তা প্রকাশ করবে না, কারণ সেখানে অবতরণের পর সাধারণ মানুষের কপালে কী ঘটবে, তা তারা খুব ভালো করেই জানে।’

সংগঠনটি আরো যোগ করে, ‘যে সরকার নিজের কাজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তারা তা লুকিয়ে রাখে না।’

প্রস্তাবিত এই ফ্লাইট ও তার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করা হলেও, কাতার কেন্দ্রের আফগান শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকা অনিশ্চয়তার মাঝেই এমন পদক্ষেপের খবর এলো।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর