
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের একটি কনফারেন্স রুমে আড়ি পাতার গোপন নজরদারি যন্ত্র বসানোর অভিযোগে এক প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি একজন সৌদি নাগরিক।
আল জাজিরা বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বিচার বিভাগ বিবৃতির বরাত দিয়ে জানায়, গ্রেফতার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী ওই সৌদি প্রকৌশলীর নাম আবদুর রহমান আলফোজান। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে গোপনীয় তথ্য অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই আড়ি পাতার যন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। গত মঙ্গলবার আদালতে প্রথম হাজির করা হয় তাঁকে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।
টয়লেট পেপারে লুকানো আড়ি পাতার যন্ত্র
বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়, কনফারেন্স রুমে টয়লেট পেপারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা যন্ত্রটি ২৮ সেপ্টেম্বরের দিকে বসানো হয়েছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর এই যন্ত্র শনাক্ত করা হয়।
ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, যন্ত্রটি উদ্ধারের আগে একাধিক দিন কনফারেন্স রুমের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন আলফোজান। অথচ ওই কক্ষে ঢোকার বা সেখানকার কোনো উচ্চপর্যায়ের গোপনীয় বৈঠকে অংশ নেয়ার কোনো অনুমতি তাঁর ছিল না। এর বাইরে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা আলফোজানের ব্যাগে আরও একটি আড়ি পাতার যন্ত্র পান।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি
ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে গোপনীয়তা এবং প্রভাব বিস্তারের অসাধু প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, 'বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কাটিং-এজ সুপার ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।'
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রধান কাশ প্যাটেল বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। এফবিআই এ ধরনের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অগ্রাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।'
নিজেদের এআই প্রযুক্তি দিয়েই অপরাধী শনাক্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ওপেনএআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের সোর্স কোড বা 'মডেল ওয়েট' অর্থাৎ এআই মডেলের মূল মেমোরি বা বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক ভিত্তির মতো সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশ করতে পেরেছেন বা তা হাতিয়ে নিয়ে পাচার করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে তারা নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলই ব্যবহার করেছে। তাদের মডেল পর্যবেক্ষণ করেই বোঝা গেছে আড়ি পাতার যন্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং কোন কর্মী কয়েক দিন আগে যন্ত্রটি সেখানে পেতে রেখেছিলেন। বিষয়টি জানার পর এফবিআইকে অবহিত করা হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ওপেনএআই। এফবিআইয়ের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








