
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসের ২০২১ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৮ জনকে বিচারের জন্য ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছে বলে রোববার মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
৫৩ বছর বয়সী মোইস ২০২১ সালের ৭ জুলাই তার ব্যক্তিগত বাসভবনে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ২০ জন কলম্বিয়ান ভাড়াটে সৈন্যের একটি দলের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেনি।
এফবিআই-এর বিশেষ এজেন্ট ব্রেট স্কাইলস বলেছেন, ‘আজকের একাধিক স্থানে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই গ্রেফতারগুলো এ ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারী সকলকে বিচারের আওতায় আনতে এফবিআই-এর অবিচল অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে।’
ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনস বলেছেন, ‘ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মার্কিন বিচারের মুখোমুখি করার জন্য হাইতি থেকে সামরিক বিমানে করে ১৮ জনকে আনা হয়েছে।’
কুইনোনস আরো বলেন, ‘পাঁচ বছর পরেও আমরা আমেরিকার আদালতে অভিযুক্তদের হাজির করে চলেছি এবং আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তিনি যোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জন সন্দেহভাজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হাইতির সরকার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যর্পিতদের মধ্যে এই তদন্তের একজন প্রধান সন্দেহভাজন- হাইতির বিচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা জোসেফ ফেলিক্স বাদিও রয়েছেন।
একই সূত্র অনুযায়ী, বাকিরা কলম্বীয় ভাড়াটে সৈন্য।
মে মাসে, মিয়ামির একটি ফেডারেল আদালতে চারজন ব্যক্তিকে মোয়েসকে হত্যা বা অপহরণের ষড়যন্ত্র, বস্তুগত সহায়তা প্রদানের ষড়যন্ত্র এবং বিদেশে একটি অবৈধ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন নিরপেক্ষতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই চারজনই ফ্লোরিডার একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা সিটিইউ-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং মোইসের ক্ষমতাচ্যুতির ক্ষেত্রে লাভজনক চুক্তি পাওয়ার আশায় তাদের এই ষড়যন্ত্রে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে এগারো জনের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, যে আদালতগুলোর এখতিয়ার রয়েছে আমেরিকার মাটিতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিচার করার।
মোইসের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হাইতি আরও গভীর বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটিতে কোনো রাষ্ট্রপতি নেই।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে, আগামী ১৩ই ডিসেম্বর দেশটি ২০১৬ সালের পর প্রথম রাষ্ট্রপতি ও আইনসভা নির্বাচন এবং সংবিধানের ওপর একটি গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গ্যাংগুলো পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, সশস্ত্র ডাকাতি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো সহিংস অপরাধ এই দরিদ্র দেশটিকে জর্জরিত করে রেখেছে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি সশস্ত্র বাহিনী, যা স্থানীয় পুলিশকে গ্যাং দমনে সহায়তা করার দায়িত্বে রয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জনবল পাবে না বলে চলতি মাসের শুরুতে এর মুখপাত্র জানিয়েছেন।
সূত্র : বাসস







