অভিবাসীরা
অভিবাসীরা সংগৃহীত ছবি

নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নির্বাসিত বা বহিষ্কার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিম্ন আদালতের দেয়া রায় মূলত বহাল রাখে। ওই রায়ে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিজ দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

আদালত বলেছে, কাউকে ‘তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর আগে তাকে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে জানাতে হবে যে কোন দেশে তাকে পাঠানো হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে, তা জানানোর ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলার সুযোগ পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নীতিমালা অনুযায়ী, এমন কোনো দেশে কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না, যেখানে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে অথবা তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।

তিন বিচারকের সর্বসম্মত প্যানেলের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বিচারক সেথ আফ্রেম বলেন, কোনো ব্যক্তিকে যে দেশে বহিষ্কার করা হবে, সেখানে নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার তখনই অর্থবহ হবে, যখন তাকে আগেই জানানো হবে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নীতি অনুসরণ করলে এমন বিপুলসংখ্যক বিদেশী নাগরিক এই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যাদের গন্তব্য তৃতীয় দেশ হলেও আগে থেকে সেই গন্তব্য সম্পর্কে জানানো হয় না।

ট্রাম্প প্রশাসন এ মামলাটি রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লক্ষাধিক অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তার প্রশাসন বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, বহিষ্কারের তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তির নিজ দেশ তাদের ফেরত নিতে কখনো কখনো অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে তাদের অন্য দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সূত্র : বাসস