
কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স) সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ রদবদল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্য দুই প্রকল্প হলো-টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প
এবং মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প। পাশাপাশি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-২ শাখা থেকে উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এসব পদায়ন ও দায়িত্ব পরিবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
পার্টনার প্রকল্পে নতুন পিসি সাখাওয়াত হোসেন শরীফ
দেশের কৃষি খাতের অন্যতম বড় উদ্যোগ পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও আইসিটি উইংয়ের উপপরিচালক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন শরীফ। তিনি আবুল কালাম আজাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) সহায়তায় প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে লিড এজেন্সি হিসেবে ডিএইর অংশে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩৫৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিতে উদ্যোক্তা তৈরি, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। এর আওতায় প্রায় দুই কোটি কৃষকের মধ্যে স্মার্ট কৃষি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমিকে ভালো কৃষি চর্চা (জিএপি) সনদের আওতায় আনা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
বড় পরিসরের এ প্রকল্পে বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রমে আরও সমন্বয় ও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিস্যু কালচার প্রকল্পের নতুন পিডি আবুল বাসার মিয়া
টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের নতুন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হয়েছেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আবুল বাসার মিয়া। শুরু থেকে এই প্রকল্পের পিডির দায়িত্বে ছিলেন তালহা জুবায়ের মাশরুর।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে একনেকের অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে মাঠপর্যায়ে অবকাঠামোগত কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
মসলা প্রকল্পের দায়িত্বে মাসুদুর রহমান
মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) নতুন প্রকল্প পরিচালক হয়েছেন চর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পে সংযুক্ত অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বর্তমান পিডি রাসেল আহমেদ এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় মসলা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে একনেকের অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে ১১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনের পর প্রায় ১৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পেও দায়িত্ব পরিবর্তন
এদিকে. বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) অর্থায়নে পরিচালিত সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি এবং ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ-সংশ্লিষ্ট দুটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ দায়িত্ব থেকে তালহা জুবাইরকে অব্যাহতি দিয়ে টিস্যু কালচার প্রকল্পের নতুন পিডি মো. আবুল বাসার মিয়াকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








