
দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যাচ্ছে, অতীতের সফলতা ভেঙে দলটির জনসমর্থনে মারাত্মক ধস নেমেছে। ফলে জোহানেসবার্গসহ দেশের প্রধান প্রধান নগর সরকার গঠনে এখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং এএনসি দুর্বল অবস্থানে পড়ে জোট সরকারের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।
ভোটের ফলাফলে চরম বিপর্যয়
রোববার (৮ নভেম্বর) ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার দল এএনসি দেশজুড়ে মাত্র ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক অ্যাল্যায়েন্স (ডিএ) পেয়েছে ২৫ শতাংশ ভোট।
২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনের পারফরম্যান্সের তুলনায় এটি প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট পতন নির্দেশ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার উমখন্টো উইসিজওয়ে দল প্রায় ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং বাকি ভোটগুলো ভাগ হয়ে গেছে শতাধিক ছোট দলগুলোর মধ্যে।
জনঅসন্তোষ ও এএনসির ভরাডুবির কারণ
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকলেও দুর্নীতি এবং বেকারত্ব দূর করতে এএনসির ব্যর্থতায় ভোটাররা ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। বর্ণবাদ অবসানের তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও দেশটিতে বেকারত্বের হার ৩৪ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
তাছাড়া, খাবার পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় নির্বাচনে এএনসির ভোটের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। এবার জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়াসহ আটটি বড় মেট্রোপলিটন এলাকার একটিতেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
নগর সরকার গঠনে দরকষাকষি ও জোটের সমীকরণ
দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র জোহানেসবার্গসহ প্রধান শহরগুলোতে কোনো দলই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। ফলে নগর সরকার গঠন করতে এএনসি এবং ডিএ—উভয় দলকেই ছোট দলগুলোর সাথে সমঝোতা বা চুক্তি করতে হবে। সিটি কাউন্সিল গঠনের পূর্বে দলগুলো আলোচনা ও রাজনৈতিক দরকষাকষির জন্য মোট ১৪ দিন সময় পাবে।
জোহানেসবার্গে প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে গণনায় এগিয়ে রয়েছে ডিএ, যেখানে এএনসি পেয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ ভোট। জোটের সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে রাস্তাঘাটের গর্ত মেরামত এবং পানির পাইপের ছিদ্র ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালানো ডিএ-র প্রবীণ নেত্রী হেলেন জিল মেয়র হওয়ার ভালো সুযোগ পেতে পারেন।
দলীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য
এএনসির সাধারণ সম্পাদক ফিকিলে এমবালুলা এই ফলাফলকে দলটির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তিনি জানান, শিগগির জোটের আলোচনা শুরু হলেও পদের জন্য দলটি কাকুতি-মিনতি করবে না।
শনিবার এমবালুলা বলেন, ‘যখন জনগণ আমাদের বলে যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, ... তখন তাদের সাথে তর্ক না করে ঘরে ফিরে নিজেদের গুছিয়ে নেয়াই সৎ কাজ।’
অন্যদিকে এক বিবৃতিতে বিরোধী দল ডিএ জানিয়েছে, তারা এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করবে যারা ‘স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার, দুর্নীতি দূরীকরণ, সবার জন্য নাগরিক সেবা প্রদান, আইনের শাসন এবং অসাম্প্রদায়িকতার নীতিতে বিশ্বাসী।’
সূত্র : আল জাজিরা
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








