
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে পুরস্কার পেয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সূক্ষ্ম রসিকতায় খোঁচা দিয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী প্রখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই। অন্যদিকে তার এই নোবেল প্রাপ্তিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসরাইল ও ওয়াশিংটন।
জার্মানির নুরেমবার্গের ঐতিহাসিক আদালত কক্ষে নোবেল জয়ের খবর পাওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে নাভি পিল্লাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে ইঙ্গিত করে এক বুদ্ধিদীপ্ত কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন। পিল্লাই হাসতে হাসতে বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তবে আমি এই পুরস্কারটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ভাগ করে নিতে পারি।’
পিল্লাইয়ের এই মন্তব্যটির পেছনে একটি রাজনৈতিক পটভূমি রয়েছে। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার আশায় তার নিজের নোবেল পদকটি প্রতীকীভাবে ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পিল্লাই মূলত ট্রাম্পের সেই মেডেল পাওয়ার কাণ্ড এবং তার নোবেল-ক্ষুধাকেই উপহাস করেছেন।
এদিকে, নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়, যেখানে বলা হয়-- নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইয়ের মতো একজন মানুষকে এই পুরস্কার দিয়ে নিজেদের চিরতরে কলঙ্কিত করেছে এবং একসময়ের মহান এই পুরস্কারের মান ক্ষুণ্ন করেছে। একইসাথে পোস্টে পিল্লাইকে ‘আমেরিকা ও ইসরাইল বিদ্বেষী’ হিসেবেও আক্রমণ করা হয়।
ট্রাম্পের এই ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই হোয়াইট হাউজ থেকে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নাভি পিল্লাই অতীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এই পুরস্কার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় হোয়াইট হাউজ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তেল আবিব। গত বছর পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসঙ্ঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।
পুরস্কার ঘোষণার পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেয়। তারা এই নোবেল জয়কে তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ইসরাইলবিরোধী ঘৃণা ও কুসংস্কারকে বৈধতা দেয়ার একটি ‘কিম্ভূত অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এর আগে, পুরস্কারের খবরটি যখন নোবেল ইনস্টিটিউটের পরিচালক ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন ফোন করে পিল্লাইকে জানান, তখন তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল চরম বিস্ময় ও অবিশ্বাস। পিল্লাই হেসে উঠে পরিচালককে বলেন, ‘আমি আপনার মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত এটি বিশ্বাস করছি না!’
একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘যেহেতু আমি একজন জজ, তাই এখনো আমি এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাই!’
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার কেবল একজন মানবাধিকার যোদ্ধার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিই আনেনি, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে পরাশক্তিদের দ্বিমুখী নীতি ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে এক জোরালো চপেটাঘাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








