হরমুজে প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান-ওমান আলোচনা

মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি ‘যৌথ সাময়িক নৌ চলাচল করিডোর’ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে। একই সাথে প্রণালীটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল-বুসাইদি সাক্ষাৎ করেন
তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল-বুসাইদি সাক্ষাৎ করেন |রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারো ওমানের সাথে আলোচনা শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি ‘যৌথ সাময়িক নৌ চলাচল করিডোর’ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে। একই সাথে প্রণালীটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর সব মাইন ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। এর আগেও তিনি একই দাবি করেছিলেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সঙ্ঘাত অনেকটা কমে এলেও যুদ্ধের অবসান ও শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অচল হয়ে আছে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

মঙ্গলবার ওমানের আশ শিশাহ উপকূলের প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল (১৭ কিলোমিটার) উত্তর-পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে। আশ শিশাহ হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ওই ভিডিও সম্পর্কে অবগত।

প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে নজরদারিতে রাখার দাবি করা হয় এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে নেয়া বা কূটনৈতিক কার্যক্রম কমিয়ে আনা কিছু মিশনে আবারো কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে বোঝা যাচ্ছে—নিকট ভবিষ্যতে ইরানের সাথে সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তবে কিছু দূতাবাস শুরুতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নিষেধাজ্ঞার চাপ
ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সাথে ব্যবসা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব না দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ইরান অবশ্য দেশটির অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন উদ্যোগকে ‘চরম বেআইনি’ কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সাথে বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রচারণায় যোগ দেবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তেহরান।

রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সূত্র : রয়টার্স