নতুন মার্কিন শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্পের সাথে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ

কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

গত মাসে ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের আদেশে সই করেন। হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, মার্কিন অ্যালকোহল, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডা ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে।

নতুন শুল্ক মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আওতায় ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

শুল্ক এড়াতে দুই দেশের আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুল্ক কার্যকর না করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং এখন শুধু ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো চুক্তি হলে সেটি সরাসরি ট্রাম্পই ঘোষণা করবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে যেকোনো আলোচনা ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে কার্নি ট্রাম্পের সাথে ফোনে শুল্ক বিষয়ে আলোচনা করেন। এর আগের দিনও দুই নেতা কথা বলেছিলেন। তখন কার্নি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, শুল্ক এড়ানোর আলোচনা ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ পর্যায়ে রয়েছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রফতানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে, যার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শুল্ক কানাডার অর্থনীতির জন্য ‘সামান্য’ নেতিবাচক ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে দেশটির মধ্যাঞ্চলের উৎপাদনশিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন শুল্ক এড়ানোর পাশাপাশি ট্রাম্পের আরোপ করা বিভিন্ন খাতভিত্তিক শুল্ক থেকে ছাড় পেতেও কানাডার প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব শুল্কের কারণে কানাডার গাড়ি, ইস্পাত, কাঠ ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কানাডার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে কানাডা বিভিন্ন প্রদেশকে মার্কিন মদ ও ওয়াইন আবার দোকানের তাকে রাখার জন্য চাপ দেয়ার মতো কিছু ছাড় দেয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে চুক্তি খুব শিগগিরই হবে কি-না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: বাসস