
একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, অন্যদিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত। শক্তির পার্থক্যটা ফুটে উঠল সল্টলেক স্টেডিয়ামের স্কোরলাইনেও। প্রথমবারের দেখায় ভারতকে ৪–০ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে ব্রাজিল।
শনিবার কলকাতায় ব্রাজিলকে প্রীতি ম্যাচে আতিথ্য দেয় ভারত। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শুরুতে অবশ্য স্বাগতিকেরা নিজেদের সামলে রেখেছিল। রক্ষণ জমাট রেখে ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার উঠেছিল তারা।
কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শ্রেণিগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এস্তেভাও ও পেদ্রোর গোলে প্রথমার্ধে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনো করেন জোড়া গোল।
শুরুতেই ভিনিসিউস জুনিয়রের শট ঠেকিয়ে ভারতকে স্বস্তি দেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। অষ্টম মিনিটের ওই প্রচেষ্টার পর কর্নার থেকে মার্কিনিয়োসের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ভারতও সুযোগ পেয়েছিল—কর্নার থেকে পাওয়া বলে লালেংমাউইয়া রালতের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।
২৮তম মিনিটে অবশেষে গোলের মুখ খোলে ব্রাজিল। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে মাতেউজিনহোর পাস পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন এস্তেভাও। গুরপ্রীত বলটিতে হাত লাগিয়েও আটকাতে পারেননি।
গোল খাওয়ার পর ভারত আবারো রক্ষণে মনোযোগী হয়। ৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন পেদ্রো। তার হেডার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অপেক্ষা বাড়ে দ্বিতীয় গোলের জন্য।
তবে ৪২তম মিনিটে আর ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। এস্তেভাওয়ের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন পেদ্রো, যা গুরপ্রীতের হাতের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়। ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ভারত।
বিরতির পর দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনে। ভারতও আক্রমণে কিছুটা গতি বাড়ায়। ৫৩তম মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলের অভিষিক্ত গোলরক্ষক পেদ্রো মরিসকো। দুই মিনিট পর মনবীর সিংয়ের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি।
তবে ভারতের সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫৮তম মিনিটে তৃতীয় গোল করে ব্রাজিল। মাঝমাঠে বল জিতে পেদ্রোর সাথে দারুণ সমন্বয়ের পর স্যামুয়েল লিনো বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান। গোলটি ছিল ব্রাজিলের হয়ে লিনোর প্রথম।
তিন গোলের পিছিয়েও ভারত লড়াই চালিয়ে যায়। রায়ান উইলিয়ামস একবার গোলরক্ষককে কাটিয়ে শট নিলেও মাউরো জুনিয়র প্রায় গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দেন। পরে উইলিয়ামসের আরেকটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে যায়। মনবীরও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু গোলের দেখা পাননি।
শেষ দিকে আবারো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় ব্রাজিল। এন্দরিক, দগলাস লুইজ ও ব্রুনো গিমারায়েসের উপস্থিতিতে ভারতের রক্ষণকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ৯১তম মিনিটে ভান্ডারসনের শট ঠেকিয়ে দেন দ্বিতীয়ার্ধে গুরপ্রীতের বদলি হিসেবে নামা প্রভসুখান গিল।
তবে চতুর্থ গোলটি আর ঠেকানো যায়নি। ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে কর্নারের পর মাউরো জুনিয়রের সহায়তায় বক্সের বাঁ দিক থেকে শট নেন লিনো। নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে যায়। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্রাজিলের জয়টাও ৪–০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রায় ৫১ হাজার ৪০০ দর্শকের সামনে এই ম্যাচটি ছিল দুই দেশের জাতীয় দলের প্রথম সাক্ষাৎ। ভারতের জন্য এটি ছিল ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর তাদের মুখোমুখি হওয়া সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিপক্ষ।
সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত বুঝিয়ে দিল দুই দলের বর্তমান অবস্থানের ফারাক।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








