ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চিপস খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় ও বিক্রি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে অ্যামাজন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের মোট রাজস্ব ২০ শতাংশ বেড়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস)-এর আয় ৩৭ শতাংশ বেড়ে ৪২ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
কোম্পানিটি আরো জানায়, এআই-সংশ্লিষ্ট তাদের দু’টি বিভাগে তিন অঙ্কের হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এআই ক্লাউড এবং চিপ ব্যবসা—উভয়েরই বার্ষিক পুনরাবৃত্ত রাজস্বের হার ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
ফলাফল প্রকাশের পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম সাত শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো অ্যামাজনও দেখাতে চাইছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তাদের বিপুল বিনিয়োগ ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্লেষকদের সাথে এক বৈঠকে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, ‘এডব্লিউএস এখন দারুণ গতিতে এগোচ্ছে।’
তিনি বলেন, সময়ের সাথে শুধু এডব্লিউএসই ‘খুব সম্ভবত বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয়ের ব্যবসায়’ পরিণত হতে পারে।
অ্যামাজন নিজস্ব এআই মডেল ‘নোভা’ তৈরি করেছে। তবে সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি এ প্রকল্পের কাজ গুটিয়ে আনছে।
এ বিষয়ে জ্যাসি বলেন, ‘নিজস্ব ফ্রন্টিয়ার মডেল ছাড়াও এডব্লিউএস এবং অ্যামাজনের অত্যন্ত সফল ব্যবসা হতে পারে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোম্পানি এ প্রচেষ্টা থেকে সরে আসছে না। ‘আমরা আমাদের নিজস্ব ফ্রন্টিয়ার মডেল নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
অ্যামাজন তাদের গ্রাহকদের জন্য আরো কয়েক ডজন এআই মডেলের সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লদ।
জ্যাসি বলেন, এডব্লিউএসের কিছু গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের বড় এআই মডেল ব্যবহার না করে নিজেদের মালিকানাধীন তথ্যের ভিত্তিতে ছোট আকারের ‘ফাউন্ডেশন মডেল’ তৈরিতেও এডব্লিউএস ব্যবহার করছেন।
অ্যামাজন ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানের সাথে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে।
অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও মেটা—এ চার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চলতি বছর সম্মিলিতভাবে এআই ডেটা সেন্টার, চিপ এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার অ্যামাজন ২০২৬ সালের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
জ্যাসি বলেন, চলতি বছরে কোম্পানিটি এখন ২২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। আগে এ খাতে ব্যয়ের পূর্বাভাস ছিল ২০০ বিলিয়ন ডলার। বাসস



