
নতুন করে হামলা চালানো হলে ইরান তার অস্ত্রের ধরন এবং ‘যুদ্ধের ভূগোল’ বদলে দেবে বলে জানিয়েছে ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহিবি বলেছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আগের চেয়ে এখন আরো বেশি প্রস্তুত তারা।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জানায়, রোববার সন্ধ্যায় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন মোহিবি।
তিনি বলেন, ‘নতুন করে হামলা হলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে। তেহরান অস্ত্র ও যুদ্ধের ভূগোল বদলে দেবে। নতুন সক্ষমতা ও নতুন সামর্থ্য নিয়ে নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হবে। বিশ্ব বিস্মিত হবে।’
মোহিবি আরো বলেন, ‘ইরানে লক্ষ্যবস্তু এখন আর আগের মতো নেই। আমরা নতুন কিছু লক্ষ্যস্থল চিহ্নিত করেছি, যেগুলোতে এখনো হামলা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। আমাদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হয় না, চলতে থাকে। আইআরজিসি আগে থেকেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। এখন তারা আরো বেশি প্রস্তুত।’
মোহিবি জানান, আইআরজিসির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যোগাযোগ হয়নি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও কোনো কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা করাই সামরিক বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব।
তার দাবি, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। ওয়াশিংটনের পরিবর্তে ইরানই এখন এ অঞ্চলের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এসব মন্তব্য করলেন মোহিবি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে যেত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল হামলার লক্ষ্য। জবাবে ইরান ইসরাইল ও অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধ থামে। জুনে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পরই সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। এরপরও পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসানের চেষ্টা চলছে।







