এইচএসসি, ক্রীড়াবিদ
ক্রীড়াবিদদের অনেকেই এবার ভালো ফলাফল করেছেন। সংগৃহীত

জাতীয় দলের হয়ে খেলা, অনুশীলন আর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ব্যস্ত সূচি। এর মাঝেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মিলেছে সেই চেষ্টার স্বীকৃতি।

Advertisement

হকি, ফুটবল, টেবিল টেনিস ও ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মাঝে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছেন নারী হকি দলের হিমাদ্রী বড়ুয়া।

হিমাদ্রীর যমজ বোন নিলাদ্রী বড়ুয়াও পেয়েছেন ভালো ফল। তিনি অর্জন করেছেন জিপিএ ৪.৮৩। দুজনই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী এবং জাতীয় নারী হকি দলের সদস্য।

জাতীয় দলের ক্যাম্প ও অনুশীলনের ব্যস্ততায় পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাননি তারা। তাই ফল নিয়ে প্রত্যাশাও ছিল সীমিত।

নিলাদ্রী বলেন, ‘ভালোভাবে প্র্যাকটিস করার জন্য সেভাবে পরীক্ষা দিতে পারিনি। বেশি কিছু আশা ছিল না, তারপরও ভালো লাগছে ফল দেখে।’

আরো পড়ুন—সরকারে টানাপোড়েনের মধ্যেই সাংবাদিককে বিয়ে করলেন কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী, কে তিনি?

পড়াশোনার পাশাপাশি হকিও চালিয়ে যেতে চান দুই বোন। উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা হিমাদ্রীর। তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে, ঢাকাতে ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাই।’

বিকেএসপির হকি বিভাগ থেকে এবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সাত খেলোয়াড়ের ছয়জনই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে, টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই সাই মারমাও পেয়েছেন সাফল্যের খবর। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি জিপিএ ৪.৬৭ অর্জন করেছেন। তবে পড়াশোনা ও খেলাধুলা একসাথে চালিয়ে নেয়া সহজ ছিল না তার জন্য।

খই খই বলেন, ‘আসলেই একসাথে দুইটা চালানো কঠিন ছিল, পরীক্ষার জন্য আমি সিলেকশন দিতে পারিনি, যে কারণে বড় দুটি গেমস মিস করেছি, তারপরও ফলটা অপ্রত্যাশিত ছিল, খুব ভালো লাগছে।’

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা তার। টেবিল টেনিসের জুনিয়র জাতীয় দলের আরো চার খেলোয়াড় রেশমি তঙচঙ্গা, ঐশি রহমান, নাফিস ইকবাল ও আবুল হাসেম হাসিবও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ফুটবলারদের ফলও আশাব্যঞ্জক। জাতীয় দলের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয়সহ পেয়েছেন জিপিএ ৪.৭১। 

অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন মানবিক বিভাগ থেকে অর্জন করেছেন জিপিএ ৪.২৫।

ক্রিকেটে জাতীয় নারী দলের তারকা পেসার মারুফা আক্তারও পেরিয়েছেন এইচএসসির বাধা। এবার বি গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তবে তিনি গত শিক্ষাবর্ষেও পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

গত বছর একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে আবার পরীক্ষায় বসেছিলেন মারুফা। দ্বিতীয় চেষ্টায় সফল হয়েছেন তিনি।