রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, মুর্মু
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে যাচ্ছেন রাহুল-মমতাসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। সংগৃহীত

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে এবার দেশটির রাষ্ট্রপতির কাছে যাচ্ছেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। 

Advertisement

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভারতীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাথে বিরোধী নেতারা বৈঠক করবেন। জোটের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে বিশেষভাবে থাকবেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে বৃহস্পতিবার বিকেলেই দিল্লি রওনা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র এক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয় ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার- সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর অভিযোগ, তাদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, বেআইনিভাবে ৬ নম্বর ফর্মের বয়ান বদল, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সঁধু এবং জোশী। 

গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন তারা। বিতর্কের মুখে কমিশনের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলো কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা নির্বাচন সদন অভিযান করেছেন। বুধ এবং বৃহস্পতিবারও জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয় দিল্লি। 
বুধবারের বিক্ষোভের অভিমুখ ছিল যন্তর মন্তর। আগামী শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে মেগা সমাবেশ রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’র। 

পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতির কাছেও জ্ঞানেশের ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে।