
গভীর রাতে ভারতের দিল্লির শালিমারবাগ মদিনা মসজিদে বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পৌরসভা।
শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের দিকে যাওয়ার রাস্তার কাছে ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের উপরের অংশ এবং সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে ভাঙার কাজ চালানো হয়। রাস্তা চওড়া করার প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘দখল’ সরাতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রাতের আঁধারে ধর্মীয় স্থাপনায় বুলডোজার চালানো হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোবিন খান জানান, পৌরসভার নোটিশ পাওয়ার পর আইনজীবীর পরামর্শে প্রয়োজনীয় নথির স্পষ্ট কপি চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নোটিশ দেয়া হয়। শেষ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথা জানানো হয়। পরে কমিটি আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়।
মোবিনের দাবি, শুনানিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুতের মিটার থাকা মসজিদের একটি তলা স্বীকৃত। বাকি অংশকে নতুন নির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ২০০১ সালে তিন তলা নির্মাণের নকশা জমা দেয়। পাশাপাশি দেয়ালের প্লাস্টারের বয়স পরীক্ষারও আবেদন করা হয়। তবে এসব নথি ও বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মসজিদের ইমাম জারিফুর রহমান প্রশ্ন করেন, শালিমারবাগের বহু বাড়ি যদি সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে একই ব্যবস্থায় থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে শুধু মসজিদকেই কেন বেআইনি নির্মাণ বলা হচ্ছে?
অভিযানের খবর পেয়ে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এআইএমআইএমের দিল্লি সভাপতি শোয়েব জামাই। তার দাবি, পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিল। মসজিদের ভেতরে কোরআনসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকায় তিনি দলবল নিয়ে সেগুলো সরিয়ে আনেন।
শোয়েব জামাই অভিযোগ করেন, মধ্যরাতের এ অভিযান সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি ঘটনাটিকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার ঘটনার সাথে তুলনা করে দিল্লিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার আহ্বান জানান।








