পাকিস্তান-তালেবান-আফগানিস্তান-হামলা-বিমান-টিটিপি
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কে-পি) ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর আফগান সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে ‘সুনির্দিষ্ট’ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। একই সাথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থল অভিযানও চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এসব অভিযানে মোট ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (এমওআইবি) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, কে-পি প্রদেশে সাম্প্রতিক একাধিক সন্ত্রাসী হামলার পর কোহাট, হাঙ্গু ও থালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত স্থল অভিযান চালানো হয়। এরপর এসব হামলার জন্য দায়ী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ঘাঁটি ও নিরাপদ আস্তানায় ‘সুনির্দিষ্ট’ বিমান হামলা চালানো হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কোহাটের পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে বিস্ফোরণে ২৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পরে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে আট সন্ত্রাসীকেও হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানভিত্তিক হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর কোহাট ও হাঙ্গু জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পৃথক স্থল অভিযান চালানো হয়। এতে ভারতীয় মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের’ নয়জন ‘খাওয়ারিজ’ নিহত হয়। কয়েকজন আহতও হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফিতনা আল-খাওয়ারিজ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকটি প্রশিক্ষণশিবির ও ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে আত্মঘাতী বোমারুদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রও ছিল। এসব হামলায় ২৮ সন্ত্রাসী এবং কয়েকজন আত্মঘাতী বোমারু নিহত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সবসময় চেষ্টা করেছে। তবে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, আফগানিস্তান এখনো সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকায় পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটির দাবি, পাকিস্তানের জন্য সন্ত্রাসবাদের হুমকি আফগানিস্তান থেকেই আসছে। এ কারণে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছিল এবং কোনো পার্শ্বক্ষতি হয়নি।

‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কাঠামোর আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘গাজাব লিল হক’ পূর্ণ গতিতে চলবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করাই এ অভিযানের লক্ষ্য বলে তারা উল্লেখ করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের পর ‘গাজাব লিল হক’ অভিযান শুরু হয়। আফগান তালেবান বাহিনী একাধিক স্থানে হামলা চালানোর পর পাকিস্তান দ্রুত সামরিক জবাব দেয়।

এর আগে পাকিস্তানে ধারাবাহিক হামলার পর আফগানিস্তানের ভেতরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের শিবিরেও বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। এসব হামলার মধ্যে ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলাও ছিল।

এর এক দিন আগে কে-পি’র হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরের সাথে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে ছয় নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে দুই কর্মকর্তা নিহত হন। ওই সংঘর্ষে ফিতনা আল-খাওয়ারিজের আট সদস্যও নিহত হয়।

কে-পি জুড়ে হামলা অব্যাহত থাকায় জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য জবাব দেবে ইসলামাবাদ।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের এই হামলার মুখে পাকিস্তান নীরব থাকবে না। আফগানদের দুর্ভোগ কমাতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছে, যদিও তালেবানের কিছু নীতির ব্যাপারে তাদের আপত্তি রয়েছে।

আহমদ বলেন, আফগানিস্তান আবারো এমন বহু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, যারা দেশটির মাটি থেকে অবাধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তালেবান ও টিটিপিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত তিন বছরেই আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের কারণে ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি নিরপরাধ পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন।