
টানা কয়েকদিনের দরপতনের পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বেলা ১২টা পর্যন্ত সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ৩২ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৬ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করে। একই সময়ে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৭ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক ১১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়েছে।
ডিএসইর সর্বশেষ প্রকাশিত বাজার তথ্যে দুপুর ১২টা ১২ মিনিট পর্যন্ত মোট ২৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে ৮ কোটি ৭২ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয় এবং লেনদেনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৭ হাজার ৯০০টি। বাজারে দরবৃদ্ধির পাল্লাই ভারী ছিল; ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৭২টির।
দিনের প্রথম ঘণ্টায়ও বাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। সকাল ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১৬৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এ সময় ডিএসইএক্স ৩১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে উঠে আসে। দর বেড়েছিল ২৯১টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমেছিল মাত্র ৪৯টির।
লেনদেনের দিক থেকে বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল বেক্সিমকো। প্রথম ঘণ্টায় কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। এরপর ছিল সোনালী আঁশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইভেন্সি টেক্সটাইল ও সায়হাম টেক্সটাইল।
ডিএসইর বাজার তথ্যে বেক্সিমকোর শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধিও দেখা যায়। পাশাপাশি সিরামিক, প্রকৌশল, বস্ত্র, জুট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট খাতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেছে।
বুধবারও বাজারে স্বস্তি ফিরেছিল। ওই দিন ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে ওঠে। লেনদেন হয় ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে টানা দরপতনের পর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে লেনদেনের গতি তেমন বাড়েনি। বুধবারের ৬০৫ কোটি টাকার মতো লেনদেনের তুলনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের ধারাবাহিকতা বাড়ে কি না, সেটিই এখন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। তবে শেষদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। এতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমেছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৭১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৬টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৭টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৬টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৪টির দাম কমেছে। আর ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
তবে সার্বিকভাবে আজকের বাজারে বিক্রির চাপ কমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি এবং সূচকের ঊর্ধ্বগতি বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রবণতা টেকসই করতে হলে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে ধারাবাহিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








