ইজরাইলি , ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট, খোঁজ,  চীন, সামরিক বিজ্ঞানীরা,
বেসামরিক বিমান। সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিটের অবস্থান চিহ্নিত করার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন চীনের সামরিক বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, ইরানের সাথে সংঘাতের সময় ইসরাইলের কাছাকাছি এলাকা থেকে দুই জায়গায় সিগন্যাল জাল বা জিপিএস স্পুফিং করে জিপিএস লোকেশন বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। 
জিপিএস স্পুফিং (GPS Spoofing) হলো এক ধরনের সাইবার বা ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিগত কারসাজি, যার মাধ্যমে কোনো বিমান, জাহাজ বা ড্রোনের আসল জিপিএস লোকেশন বা অবস্থান বিকৃত করে ভুয়া তথ্য দেখানো হয়।

Advertisement

সহজ কথায়, কোনো যান বাস্তবে যেখানে অবস্থান করছে, তার স্যাটেলাইট সিগন্যালকে শক্তিশালী নকল সিগন্যাল দিয়ে বিভ্রান্ত করে দেয়া হয়। ফলে যানের ভেতরের কম্পিউটার বা নেভিগেশন সিস্টেম মনে করে সে অন্য কোনো জায়গায় আছে। জিপিএস স্পুফিং কার্যকর করতে সামরিক বাহিনী ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটগুলো আকাশে বা ভূমিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষতিকারক জিপিএস সিগন্যাল ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে থাকে।

গবেষণাপত্রটির বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জানায়, দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির গবেষক দু লান ও তার দল এ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গত ৭ অক্টোবর পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী 'জার্নাল অব জিওম্যাটিক্স সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'-তে এটি প্রকাশিত হয়। চীনের গবেষক দলটির ধারণা, জিপিএস সিগন্যাল বিভ্রান্তির ওই দুই উৎসের অবস্থান ছিল ইসরাইলের হাইফা শহরের কাছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমটি।

গবেষণায় গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিনা উস্কানিতে ইরানে আক্রমণ চালানোর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪৩ দিনের বিমান চলাচলের উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের মুখে পড়লে ফ্লাইটের তথ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। বিমানটি হঠাৎ দূরে কোনো স্থানে চলে গেছে বলে দেখা যায়।  কিংবা স্বাভাবিক উড্ডয়ন পথের সাথে অসংগতি তৈরি হয়। চীনের দলটি অতিরিক্ত কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই কম খরচে ও দ্রুত গতিতে সিগন্যাল বিকৃতির উৎস শনাক্ত করতে সক্ষম নতুন এই অ্যালগরিদম তৈরি করেছে।

গবেষক দলটি ভূমধ্যসাগরে দুটি আলাদা এলাকা চিহ্নিত করে। এর মধ্যে একটি অঞ্চল ছিল ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান শহর হাইফা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। আর দ্বিতীয় অঞ্চলটি ছিল গাজা ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

চীন দলের প্রধান দু লান জানান, দূরপাল্লার ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথম অঞ্চলের জিপিএস স্পুফিং ব্যবস্থাটি মূলত ইরানের 'শাহেদ-১৩৬'-এর মতো আত্মঘাতী ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহার করা হয়। এসব ড্রোন সিগন্যাল বিভ্রান্তি সহজে প্রতিরোধ্য বলে সেখানে জটিল ও গতিশীল স্পুফিং কৌশল নিতে হয়েছিল।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় এলাকার জিপিএস বিভ্রান্তি ব্যবস্থাটি গাজা ও ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের সাধারণ ড্রোনের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এ ধরনের ড্রোনের নেভিগেশন স্পুফিং প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় সেখানে সাধারণ একমুখী সিগন্যাল বিভ্রান্তি কৌশলই যথেষ্ট ছিল।

শাহেদ ১৩৬

 

তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে গবেষকেরা উন্মুক্ত এডিএস-বি (অটোমেটিক ডিপেন্ডেন্ট সার্ভেইল্যান্স-ব্রডকাস্ট) সিস্টেম থেকে বিমানের অবস্থান ও গতির উপাত্ত সংগ্রহ করেন। গতিসীমার তারতম্য দেখে প্রাথমিক অস্বাভাবিকতা বাছাইয়ের পর সময়, উচ্চতা ও ভৌগোলিক অবস্থান পরীক্ষা করে জিপিএস স্পুফিং নিশ্চিত করা হয়। গবেষকেরা জানান, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তিতে জাহাজের নেভিগেশন ডেটাও যুক্ত করা হবে, যাতে বেসামরিক বিমানের বাইরে সমুদ্রেও এ পদ্ধতি কাজ করে।