
রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রকাশিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থার কারণে দেশে দীর্ঘদিন ধরে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইশতেহারে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় দলটি।
ইশতেহারে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের আলোকে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং মামলার জট কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি জানিয়েছে, বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আইন প্রয়োগের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমনকে আইন–শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে ইশতেহারে স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর অডিট ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বড় দুর্নীতির ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার সংস্কৃতির অবসানের কথা উল্লেখ করে বিএনপি জানিয়েছে, আইনের চোখে সবাই সমান এই নীতির ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে যেন কেউ নিপীড়নের শিকার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে দলটি।







