শ্রমিকের রক্তের দায় শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ হবে না
জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কনভেনশনে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

শ্রমিকের রক্তের দায় শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এই দায়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম সংস্কার কমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমানের উন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ আয়োজিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কনভেনশন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকের রক্তের দাগ রাজপথে লেগে গেছে। ফলে মজুরি বোর্ডের ওপর শ্রমিকের রক্তের একটি দায় তৈরি হয়েছে। এই দায় শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ হবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এই দায়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আশির দশক থেকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ধীরে ধীরে একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে। অথচ সেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে রক্ত ঝরাতে হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবম পে-স্কেল ঘোষণার পরও বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ-সবাই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পিষ্ট হচ্ছেন। এর সাথে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পশ্রমিকদের বাঁচাতে হলে শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি উদ্যোগে আবাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে শ্রমিকেরা ন্যায্য ভাড়ায় বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আক্তার। সঞ্চালনা করেন গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের সদস্য সোহেল রানা মিঠু।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো: তসলিম, শ্রমিক সংহতির সভাপতি রুহুল আমীন, গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের নারায়ণগঞ্জ সভাপতি আব্দুল মমিন, মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তার, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি রুজিনা আক্তার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শহীদ, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি শাহিদা সরকার, জাতীয় গার্মেন্টস সোয়েটার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও টেক্সটাইল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বাছির, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সহসাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম।

 

Advertisement