সিলেটেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

Advertisement

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিনশিপের অংশ দুই টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৮ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের একই চিত্র গতকাল দেখা গেল সিলেটেও। দিনের শুরুতে সিলেট টেস্টে বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ছিল বাংলাদেশের। উইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৯০ রান খরচায় নিয়েছেন ছয় উইকেট। তবে বল হাতে স্বস্তি ফিরলেও ব্যাটিংয়ে সেই পুরনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। এখনো সফরকারীদের চেয়ে ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত থাকা আমির জাঙ্গু ছিলেন ১১১ রানে। অন্য প্রান্তে জাস্টিন গ্রিভসের সংগ্রহ ছিল ৩৫। দিনের শুরুতে দু’জন মিলে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ভুগিয়েছেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ১০৬ রানের জুটি ভাঙতে বেশ সময় লেগেছে স্বাগতিকদের। তবে নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হাসান। ইনিংসের ৮২তম ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ১৩৩ রান করা জাঙ্গুকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলেই লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে অধিনায়ক রোস্টন চেজকে সাজঘরে ফেরান। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান।
জশুয়া বিশপকে পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন হাসান। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ। তবে তাতে হাসানের দাপট থামেনি। পরে লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে ২৩ রান করা বিশপকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এরপর শামার জোসেফকে বোল্ড করে ছয় উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বাংলাদেশের এই পেসার।
এর আগে প্রথম দিনেই কেভিন উইকহ্যামকে ৬১ রানে বোল্ড করেছিলেন হাসান। সব মিলে বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ৯০ রানে ছয় উইকেট। টেস্টে এটি তার পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ডও এখন তার। পেছনে ফেলেছেন শাহাদাত হোসেনকে, যার পাঁচ উইকেটের ইনিংস ছিল চারটি। হাসানের পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ ফিরিয়েছেন ৫১ রান করা জাস্টিন গ্রিভসকে। এরপর মনে হচ্ছিল ৩০০-এর আগেই শেষ হয়ে যাবে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। তবে টেলএন্ডারে জোমেল ওয়ারিকানের ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস, সামার জোসেফের ১৬ ও জেডেন সিলেসের ১৫ রান দলের সংগ্রহকে সাড়ে ৩০০ পার করায়।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। চোটের কারণে মাঠের বাইরে নিয়মিত ওপেনার সাদমান ইসলাম। তানজিদ হাসান তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় নাঈম হাসানকে। কিন্তু ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। জেডেন সিলসের বলে ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র পাঁচ রান করে ফেরেন নাঈম। তানজিদ ১৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের বলে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন কেভিন উইকহ্যামের। ২২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন শান্ত। ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। দু’জনের সতর্ক ব্যাটিংয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে আর কোনো বিপদ ঘটেনি। আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন উইকেটে ৮৮ রান।

 

Advertisement