
শামছুল ইসলাম
সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো: বাবুল মিঞা। তিনি বহুল আলোচিত ক্রেস্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওএসডি হয়েছিলেন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পদোন্নতির পর তাকে বিসিআইসির চেয়ারম্যান (সচিব) পদেই বহাল রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব থাকাকালে ক্রেস্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় ওএসডি হয়েছিলেন বাবুল মিঞা। সরকার বদলের পর এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি তিনটি পদোন্নতি পান। সবশেষ পেলেন সচিব পদে পদোন্নতি।
বাবুল মিঞা বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। একসময় তিনি পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বিএনপি-জামায়াতঘরানার ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম লেখান। এরপর পরপর তিনটি পদোন্নতি পান। গত ১৩ আগস্ট প্রথম পদোন্নতিতে তিনি উপসচিব হন। দুই দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট হন যুগ্মসচিব। এর তিন দিন পর ১৮ আগস্ট আরেক দফা পদোন্নতি পেয়ে হন অতিরিক্ত সচিব।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বিদেশী বন্ধু ও সংগঠনকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। তখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এ বি তাজুল ইসলাম। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে এই সম্মাননা দেয়া হয়।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননার সময় ক্রেস্ট দেয়া হয়েছিল। এসব ক্রেস্টে যে পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কথা ছিল, তার বদলে ছিল পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু। ক্রেস্ট ক্রয় কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) গোলাম মোস্তফা। সদস্য ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এনামুল কাদের খান ও সিনিয়র সহকারী সচিব বাবুল মিঞা।
কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। তখন ক্রেস্ট ক্রয় কমিটির তিনজনকেই ওএসডি করে সরকার। বাবুল মিঞা ওএসডি হন ২০১৪ সালের ৯ মে। এরপর হাসিনা সরকারের আমলে তিনি আর পদায়ন পাননি।
গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বাবুল মিঞা বিএনপি-জামায়াতঘরানার বঞ্চিত কর্মকর্তাদের সাথে যুক্ত হন। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ব্যানারে পদোন্নতির আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে চলে আসেন। এরপর একে একে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব, উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব এবং যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই কর্মকর্তা।
২০০৯ সালে হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বাবুল মিঞা ২০১১ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলি হন। প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামের এলাকার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হন আ ক ম মোজাম্মেল হক। তখন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম। আস্থাভাজন হওয়ায় তাজুল ইসলাম বাবুল মিঞাকে নিজের পিএস হিসেবে বেছে নেন। ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত তিনি পিএসের দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় ক্রেস্ট জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাকে ওএসডি করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








