
- প্রাথমিক শিক্ষায় ৪১ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা
- আরো যাচাই-বাছাইয়ে ফেরত চার প্রকল্প
পিইডিপি-৫ (পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’সহ প্রাথমিক শিক্ষার সব ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ওইপ্রকল্পটিসহ মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। তবে চারটি প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত রেখে সেগুলো আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বড় প্রকল্পে পণ্য কেনাকাটার দাম যাচাইয়ে নিয়োগ করা হবে প্রাইস অ্যাসেসমেন্ট কোম্পানি। নতুন রেট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় হচ্ছে কিনা তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। একই সাথে প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে প্রকল্প অনুমোদনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিবও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেক সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দু’টি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ সাত হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার সব ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ রয়েছে। তবে প্রকল্পের পরামর্শকসহ কয়েকটি খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ সাত হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িতব্য এ কর্মসূচির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঁচ প্রকল্প
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি। এগুলো হলো- বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প; বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ (প্রথম পর্ব); ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প; সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি) এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (তৃতীয় সংশোধিত)।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুই প্রকল্প
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয় এবং অন্যটি পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য, ও জ্বালানি খাতেও প্রকল্প
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দু’টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ-তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ খনন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের (তৃতীয় সংশোধিত) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচ প্রকল্প
পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন- এমন ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভায় অবহিত করা হয়। আর প্রকল্পগুলো হলো- দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন; দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রথম সংশোধন; ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








