
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য সম্মিলিত সমর্থন কামনা করেছেন।
অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সেন্ট জনসে অবস্থিত আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগুয়াতে গতকাল মঙ্গলবার কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। হুমায়ুন কবির ক্রমবর্ধমান জটিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, যেমন শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোতে নতুন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করার আহ্বান জানান।
এর আগে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটেনের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উভয় মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সম্পর্কের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, ব্রিটেনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের সহজ প্রবেশাধিকার, বাংলাদেশে ব্রিটেনের বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত।
উভয়পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তাসহ বহুপাক্ষিক ইস্যুতে একে অপরকে সমর্থন জোগাতে সম্মত হয়েছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১০ লাখেও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ব্রিটেনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম বিনতে ইব্রাহিম আল হাশিমির সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সহজতর করা, সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোতে ইউএইর বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে একে অপরকে সমর্থন দেয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাত রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় এর মূল কারণগুলো সমাধান করাসহ বাংলাদেশকে সহায়তা করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উভয় মন্ত্রী বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








