
বিবিসি ও নিউ ইয়র্ক টাইমস
আজ ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। ঐতিহাসিকভাবে একজন অপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট, খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ এবং বিগত কয়েক মাসের অনুকূল জনমত জরিপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য ভালো ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। সিনেটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোয় তারা সমানে-সমানে অথবা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনে লড়াই সমানে-সমানে হচ্ছে। অথচ ২০২৪ সালে এই অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। সিএনএনের সাম্প্রতিক জরিপগুলোয় টেক্সাস, কানসাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রাখা হয়েছে। আলাস্কাতেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা। অন্য দিকে আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ছয়টিতেই ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান এগিয়ে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের হাতে থাকা সব আসন ধরে রাখার পাশাপাশি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসনে জয় পেতে হবে। তবে রিপাবলিকান-অধ্যুষিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আসন পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ থাকায় শুরু থেকেই ডেমোক্র্যাটদের সামনে কঠিন সমীকরণ ছিল।
কিন্তু নতুন জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর রয়েছেন এমন পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্য আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে। টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জয়ী হননি। অন্য দিকে কানসাসে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটে জয় পেয়েছিলেন ১৯৩২ সালে।
এ দিকে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সিনেট ব্যাটলগ্রাউন্ড মিশিগানেও দলটির প্রার্থী দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্রপাতের আগেই জরিপটি পরিচালিত হয়েছিল। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনাকে জরিপের আওতায় রাখা হয়নি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন এবং রিপাবলিকানরা নির্বাচনী প্রচারে ব্যয় কমিয়ে এনেছে।
জরিপের ফলাফলে আরো দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ এবং অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে ভোটারদের হতাশা রিপাবলিকানদের অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাতটি অঙ্গরাজ্যের সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। দুই বছর আগে ট্রাম্প এসব অঙ্গরাজ্যের পাঁচটিতে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। সেই বিবেচনায় বর্তমান জরিপে তার প্রতি সমর্থনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে মার্কিন রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে জনমত জরিপ, এমনকি নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগের জরিপও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৬ ও ২০২৪ সালে ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউজের জয় নিশ্চিত করেন, তখন তিনি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে তার অল্প ব্যবধানের পরাজয়ের আগেও বেশির ভাগ জরিপ ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের একটি সহজ জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে জরিপে দেখা গিয়েছিল, ডেমোক্র্যাট আবদুর রহমান আল-সাইদ মিশিগানের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেট প্রাইমারিতে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিততে যাচ্ছেন। অথচ বাস্তবে জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ শতাংশ। উইসকনসিনের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট-দলীয় প্রাইমারিতে যে প্রার্থী জরিপে প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, তিনি ১ শতাংশেরও কম ব্যবধানে হেরে যান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








