
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসিয়ান কাপে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর সাফে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। সেই সাথে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফের এই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব দখলে নেয়া। এই লক্ষ্যেই ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া সাফে বাংলাদেশ দল মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ ভুটান। এক সময় এই পাহাড়ি দেশটিকে বলে কয়ে হারানো গেলেও এখন তারাও পাল্টা ছোবল মারে। সর্বশেষ দুই দলের মোকাবেলায় হামজা চৌধুরীকে নিয়েই বাংলাদেশ ২-০তে হারিয়েছিল ভুটানিদের বিপক্ষে। এবার ৫ তারিখের ম্যাচে হামজা ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে পাওয়া যাবে না। তারা আসবেন পরে। তাদের অনুপস্থিতিতে সাফের আগে দলকে আরেক দফা পরখ করার জন্য একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দরকার ছিল। বাফুফে থেকে বলাও হয়েছিল সাফের আগে জাতীয় দলকে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানো হবে। তা বিদেশী দল অথবা বাইরের দল না পাওয়া গেলে স্থানীয় কোনো ক্লাবের সাথে ম্যাচ। আর এই ম্যাচের তারিখ ছিল ৩১ অক্টোবর বা গতকাল ১ নভেম্বর। তবে ম্যাচটি আর খেলতে পারেনি জাতীয় দল। যে জন্য কোচ টমাস ডুলিও শেষবারের মতো সাফের দলকে পরীক্ষা করতে পারেননি।
এই ম্যাচ না হওয়ার কারণ বিদেশী দল যেমন পাওয়া যায়নি- তেমনি স্থানীয় কোনো ক্লাবও অনুশীলনে নেই। সাফের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা বন্ধ। ফলে ক্লাবগুলোও তাদের ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে। ম্যাচ খেলার জন্য প্রতিপক্ষ জোটাতে ব্যর্থতাটা এ জন্যই বাফুফের। শেষ ভরসা ছিল জাতীয় দলের ক্যাম্পের খেলোয়াড়রা। তাদের দুই ভাগে ভাগ করে ম্যাচ খেলানোর কথা ছিল। সেটাও সম্ভব হয়নি। জাতীয় দল সূত্রে জানা গেছে, সেটি না হওয়ার কারণ, জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়ন আর ২০১০ এর এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী ফুটবল দলের প্রীতিম্যাচ। সাফ ফুটবলের প্রচারণার জন্য ও দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের মিলনমেলা করার জন্যই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল বিকেল ৫টায়। তবে এই ম্যাচের জন্যই জাতীয় দলের ম্যাচটি করা যায়নি বলে জানা গেছে। জাতীয় দলের সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এই সাফ ও এসএ গেমস জয়ী দলের প্রীতিম্যাচের জন্য টমাস ডুলির জাতীয় দলের গতকালের অনুশীলন শিডিউলও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিকেলের বদলে সকালেই হয়েছে এই অনুশীলন। জাতীয় দলের সূত্রটি বলছে, এই ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়া হয়নি বলেই জাতীয় দল নিজেদের মধ্যে ম্যাচটি খেলতে পারেনি।
এ দিকে জাতীয় দলের জন্য আরেকটি আঘাত এসেছে। ইনজুরির জন্য সাফে বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়া হচ্ছে না রোনান সুলিভানের। গত পরশুই তার বাংলাদেশে আসা বিমানে ধরার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পাওয়া চোট তাকে আপাতত সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তুলতে দিচ্ছে না।
গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জোসেফস হকসের হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পান রোনান। সম্প্রতি পরীক্ষা করে জানা গেছে, তার চোট বেশ গুরুতর। পুরোপুরি সুস্থ হতে তার সাত থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাই আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া সাফে খেলতে পারবেন না তিনি। এমনকি ডিসেম্বরের আগে তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এ বছর মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই রোনান সুলিভান।
কোচ ডুলি আসার পর থেকেই জাতীয় দলের জন্য একজন নম্বন নাইন খেলোয়াড় (স্পেশালিস্ট স্ট্রাইকার) খুঁজছিলেন। আসিয়ান কাপে ব্যর্থতার পর তাই রোনান সুলিভানকে ঘিরেই আশা দেখছিলেন বাংলাদেশ দলের এই জার্মান-মার্কিন নাগরিকটি। তবে ইনজুরির জন্য তাকে না পাওয়ায় কোচকে এখন বিকল্প সন্ধান করতে হবে।
এবারের সাফ ক্যাম্পটা শুরুই হয়েছিল ইনজুরি নিয়ে। তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সিনিয়র সোহেল রানা, মিনহাজুল করিম স্বাধীন ইনজুরি নিয়ে ক্যাম্পে উঠেন। এর মধ্যে জ¦রে আক্রান্ত হন শেখ মোরসালিন। ফলে তিনি প্র্যাকটিসে ছিলেন অনিয়মিত। তবে এখন সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তপু বর্মণও পুরোপুরি ফিট। ফলে হামজা, ফারহান ছাড়া অন্য যারা ক্যাম্পে তাদের থেকেই সেরা একাদশ গড়তে পারবেন কোচ- এমনটিই আশাবাদ জাতীয় দলকে ঘিরে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








