হিমাগার না থাকায় ফসলের ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত কৃষক

মঠবাড়িয়া( পিরোজপুর) সংবাদদাতা 
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বছরজুড়ে উৎপাদিত হয় নানা কৃষিপণ্য। আলু, টমেটো, করলা, ভুট্টা, শিম ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা। বাজারে একসঙ্গে বেশি ফসল উঠলে দাম কমে যায়। তখন পচে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা। 
জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকাজ হলেও এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো হিমাগার। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, একটি হিমাগারের। এটি স্থাপন করা হলে ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। এতে এক দিকে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত, অন্য দিকে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। 
উপজেলার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মৌসুমে একসাথে অনেক টমেটো বাজারে আসে। তখন প্রতি কেজি টমেটোর দাম পাঁচ টাকাও পাওয়া যায় না; অথচ ফসল উৎপাদনে খরচ হয় অনেক বেশি। হিমাগার থাকলে টমেটো সংরক্ষণ করে ১৫ থেকে ২০ দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত। এতে লোকসান এড়ানো সম্ভব হতো। 
হিমাগার না থাকায় আলুচাষিদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়ভাবে বীজ আলু সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর অন্য জেলা থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হয় তাদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। পাশাপাশি বীজের জন্য বাইরের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
উপজেলা কৃষকরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে হিমাগার স্থাপন করা হলে নিজেদের উৎপাদিত আলুর একটি অংশ বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো। আবার বাজারে দাম কম থাকলে আলু সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা যেত। এতে উৎপাদন খরচ সামাল দেয়া এবং লোকসানের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত্রেও সংরক্ষণের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পণ্য দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা তখন কম দামেই পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করেন। এতে উৎপাদনের পুরো খরচ তুলে আনাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। 
স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, হিমাগার থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম বিবেচনা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরো গতিশীল হবে। 
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মঠবাড়িয়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হোক। সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রির চাপ কমবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগও পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুন নেছা সুমি বলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারিভাবে কোনো হিমাগার নেই। অথচ এ অঞ্চলে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে রবিশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা অনেক সময় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। উপজেলা ও প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট আকারের মিনি হিমাগার স্থাপন করা হলেও তা কৃষকদের জন্য উপকারী হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

Advertisement