
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত মেজর) আব্দুল হাফিজকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে পল্লবী থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গতকাল গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে বিচারক রাকিবুল হাসান চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক রিমান্ডের আবেদন দাখিল করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্য দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আব্দুল হাফিজ অন্যান্য সহযোগীদের সাথে যুক্ত হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এজাহার ও আবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ‘আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, এসব গ্রুপের মাধ্যমে তারা তহবিল সংগ্রহ করা এবং সহিংস ও উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি অনলাইন পেজ ও নিজস্ব ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেয়ার মতো বিষয়বস্তু প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ডিবির রিমান্ড আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল দলীয় পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে। একই সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও রিমান্ড আবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্তরা পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন শক্তির সাথে যোগাযোগ রেখে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন। পল্লবী থানার এই একই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া এবং লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা (কাজী গুলশান আরা) ইতঃপূর্বে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথিতে সহ-আসামি কাজী গুলশান আরার বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন সরকারপ্রধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১০১ জন সদস্য নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমত উসকে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বর্তমানে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে নেয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কের অর্থায়ন ও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








