
নিজস্ব প্রতিবেদন
দীর্ঘ ২২ বছর পর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বড় ধরনের ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে প্রথমবারের মতো এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা চার লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে আগামী এক মাসের মধ্যে আবার সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার।
শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছেন পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ করে ইংরেজি এবং আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ের খারাপ ফলাফলের কারণেই পাসের হারে বড় ধস নেমেছে।
অকৃতকার্যদের মধ্যে এককভাবে এক বিষয়ে ফেল করেছেন দুই লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন এক লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই চার লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী ২ ডিসেম্বর সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ফরম পূরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ২ ডিসেম্বর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা পেলেই দিন-তারিখ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ফল প্রকাশের দিন দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, কোনো শিক্ষার্থীকেই শিক্ষার মূল স্রোত থেকে হারিয়ে যেতে দেয়া হবে না। যারা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারবে না কিংবা দুইয়ের বেশি বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের জেলা ও বিভাগওয়ারি তালিকা করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। অন্তত একটি কারিগরি দক্ষতার সনদ দিয়ে তাদের দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের ফলাফলে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্য দিকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








