
দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুঁজিবাজারে আইপিওর দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। ছয়টি কোম্পানি ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের আগ্রহ দেখিয়ে তাদের আবেদন জমা দিয়েছে। হিসাব বছর শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত ১২০ দিনের সময়সীমা ফুরানোর আগে এসব কোম্পানি শেয়ার ছেড়ে মোট ৬১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায়। মন্দায় বিপর্যস্ত পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৎপরতার মধ্যেই আবেদনগুলো জমা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজারে শেয়ার ছেড়ে অর্থ উত্তোলনের আবেদন জানানো কোম্পানিগুলো হচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি, পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পিএলসি, স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসি, ডজিকন টেকনোলজিস পিএলসি ও প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
এর মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা তুলতে চায়। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে পার্কওয়ে ৪০ টাকা, স্ক্যানডেক্স ১৩ টাকা এবং বাকি তিনটি কোম্পানি ১০ টাকা দরে শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুঁজিবাজারে আর কোনো নতুন আইপিও আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত কমিশন নতুন করে আইপিও বিধিমালা সাজানোর বিষয়টি মাথায় রেখে আগের সরকারের আমলে জমা পড়া আইপিও আবেদনগুলো বাতিল করে দেয়। তবে দীর্ঘ দিনের স্থবিরতা কাটাতে এখন নতুন গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দ্রুততম সময়ে বাজারে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি আনতে আইপিও অনুমোদনে আগ্রহী। এজন্য সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইপিও বিধিমালায় বিভিন্ন ছাড় ও শর্ত শিথিলের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে আইপিও আবেদন জমা দিতে হয়। এই সময়সীমা বিবেচনায় জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য ২৮ অক্টোবর আবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন। সেদিনই ছয় কোম্পানি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আইপিও আবেদন জমা দেয়। এখন বিএসইসিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। অবশ্য অনুমোদন নির্ভর করবে আর্থিক সক্ষমতা, প্রকাশিত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও তালিকাভুক্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের ওপর। বিশেষ করে বিগত সময়ে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেয়ার অভিজ্ঞতায় নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে পাওয়া প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটির শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ডিবিএল গ্রুপের পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৪০ টাকা দরে এক কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক শান্তা ইকুইটি লিমিটেড। স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ার তিন টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৩ টাকা দরে ছাড়তে চায়। ইস্যু ব্যবস্থাপক এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।
অন্য দিকে আর্থিক খাতের অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসি ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় তিন কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ছাড়তে চায়। ইস্যু ব্যবস্থাপক ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এছাড়া প্রযুক্তি খাতের ডজিকন টেকনোলজিস পিএলসি তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩০ কোটি টাকা এবং প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড দেড় কোটি শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। উভয় প্রতিষ্ঠানের ইস্যু ব্যবস্থাপক আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
এদিকে সূচকের বড় পতনেই গতকাল সপ্তাহ শুরু করেছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। সকালে লেনদেন শুরুর পর সাময়িকভাবে সূচকের কিছুটা উন্নতি ঘটলেও তা একঘণ্টাও টিকেনি। পৌনে একঘন্টার মাথায় বিক্রয় চাপের মুখে পড়ে দুই বাজার। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ৩২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি রোববার লেনদেন শেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৪৩ ও ৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সবগুলো সূচকেরই বড় ধরনের পতন ঘটে গতকাল। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট হারায় গতকাল। রোববার সকালে ১৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ২৭ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি বিকালে লেনদেন শেষে স্থির হয় ১৪ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৩০ দশমিক ২১ ও ৪৯ দশমিক ২৭ পয়েন্ট।
সূচকের অবনতির ফলে ডিএসইর লেনদেনেও গতকাল বড় ধরনের অবনতি ঘটে। পুঁজিবাজারটি গতকাল ৪৮২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয় যা আগের দিন অপেক্ষা ৬৪ কোটি টাকা কম। গত বৃহষ্পতিবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫৬৪ কোটি টাকা। তবে বড় দরপতনের মধ্যেও সিএসইতে লেনদেনের সামান্য উন্নতি ঘটে। বাজারটি গতকাল ২০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে। গত বৃহষ্পতিবার সিএসইর লেনদেন ছিল ১৭ কোটি টাকা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








