কংগ্রেসে পরাজয়ের শঙ্কায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি ট্রাম্পের
কংগ্রেসে পরাজয়ের শঙ্কায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি ট্রাম্পের।

রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে কীভাবে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেয়া যায়, সে পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিবাসন, বাণিজ্য, আবাসন ও সরকারি ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবেলার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন এমন আরো দুজন এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকে ট্রাম্পের উপপ্রধান কর্মী কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার, বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক দফতরের সাথে কাজ করছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কোনো কোনো বিষয়ে নির্বাহী আদেশ বা অন্য পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব, তা খতিয়ে দেখছেন তারা।
হোয়াইট হাউজের আইনবিষয়ক প্রধান উইল শার্ফ ও তার দলও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। হোয়াইট হাউজের ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এককভাবে আইনগতভাবে কী করতে পারেন, কোথায় গিয়ে তার ক্ষমতার সীমা পরীক্ষা করতে পারেন এবং আদালতে এসব সিদ্ধান্ত কীভাবে সমর্থন করবেন- তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। 
এই প্রস্তুতি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের রাজনৈতিক বৈপরীত্য তুলে ধরছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে, তার আইনগত উদ্যোগ আটকে দিতে এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার সীমিত করতে পারবেন। তবে বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত নির্বাহী ক্ষমতা থেকেই যাবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প এরই মধ্যে এই ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিতে ডেমোক্র্যাটদের উভয় কক্ষে অন্তত চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সিনেটের লড়াই এখনো হাড্ডাহাড্ডি।
গত এক মাসে সারা দেশে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে তার সহযোগীরা ব্যক্তিগতভাবে ২০২৭ সালে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অবশ্য রিপাবলিকানদের আসন হারানোর আশঙ্কাকে নাকচ করেছে হোয়াইট হাউজ। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র লরেন বিস বলেন, এই প্রশাসন ও দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা সীমান্ত সুরক্ষিত করা, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পরিশ্রমী মার্কিন নাগরিকদের হাতে আরো অর্থ পৌঁছে দেয়া এবং জনগণের জন্য সাফল্য অর্জনের কাজ চালিয়ে যাবে। হোয়াইট হাউজের বিবেচনায় থাকা সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশী কর্মীদের ভিসার নিয়ম কঠোর করা এবং আবাসন ও নির্মাণ খরচ কমানোর উদ্যোগ। পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন এমন একজনের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নেয়া সম্ভব- এমন পদক্ষেপের প্রস্তাব ও আইনি পর্যালোচনা জমা দিয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় তদারকির দায়িত্বে থাকা বাজেট পরিচালক রাসেল ভট এমন কিছু কর্মসূচি চিহ্নিত করছেন, যেগুলো কংগ্রেসের আগেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি অনুদান দেয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনতে চান তিনি। এতে কোনো সরকারি কর্মসূচিতে করদাতাদের অর্থ দেয়া হবে, সে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের প্রভাব বাড়বে। ফলে কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই সরকারি ব্যয়ের ওপর হোয়াইট হাউজের নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়তে পারে।

Advertisement