
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বৃষ্টির বাগড়া, আলোক স্বল্পতার কারণে অনেক ওভার নষ্ট হয়েছে। কালক্ষেপণ হয়েছে। ক্রিকেটারদের মনোযোগ ব্যহত হয়েছে। তবুও ক্যারিবীয়দের জিততে কোনো অসুবিধা হয়নি।
তাইজুল ইসলামের শর্ট বল ব্র্যান্ডন কিং মিড অফ দিয়ে চার মারার পর মিরপুর শেরেবাংলায় বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা একে অন্যের সাথে করমর্দন করেন। চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হতে তখনো ১ ঘণ্টার মতো সময় বাকি। তার আগেই দেড় দিন হাতে রেখে আট উইকেটের সহজ জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে গেল অতিথি উইন্ডিজ। বাংলাদেশের মাঠে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট খেলেছে ২০২১ সালে। এই ভেন্যুতেই সেবার রুদ্ধশ^াস জয় পেয়েছিল ১৭ রানে। পাঁচ বছর পর এবার সেই মিরপুরে ক্যারিবীয়রা জিতল হেসেখেলে। ৫ নভেম্বর সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ছয় উইকেটে ৭৯ রান করে গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শুরুর পঞ্চম বলে জোমেল ওয়ারিকানকে চার মারেন জাকের আলী অনিক। যেখানে মুমিনুল হক ছিটকে যাওয়ায় কনকাশন বদলি হিসেবে সুযোগ পান জাকের। তবে চার মারার পরের বলেই সিøপে রোস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দেন জাকের (২২)। বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২৯ ওভারে ছয় উইকেটে ৮৪ রান।
সপ্তম উইকেটে জাকের-নাঈমের ৫০ বলে ৩১ রানের জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরপর ক্যাচ মিসের মহড়া শুরু করে। চতুর্থ দিনে উইন্ডিজ যে ক্যাচগুলো মিস করেছে, তার মধ্যে তিনটিই ওয়ারিকানের বলে। যার মধ্যে একটিতে হাসান মাহমুদের কট অ্যান্ড বোল্ড সুযোগ হাতছাড়া করেন ওয়ারিকান। ৩১.২ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার যখন ক্যাচ ড্রপ করেন, তখন হাসানের রান ১। বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারাতে পারত অষ্টম উইকেট। ওয়ারিকানের বলে এরপর যে দুই ক্যাচ মিস হয়েছে, দুইবারই জীবন পেয়েছেন নাঈম। যার মধ্যে ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে প্রথম সিøপে চেজ ক্যাচ মিস করে সেটাকে চার বানিয়ে দেন। তখন নাঈমের রান ২১। আরেক দফা যখন জীবন পান, তখন তার রান ২৯। ৩৬তম ওভারের শেষ বলে এবারও ওয়ারিকানের বলে এবার সেই প্রথম সিøপেই চেজ ক্যাচ মিস করেন।
নাঈম এক প্রান্তে জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে থাকেন। অন্য প্রান্তে তাকে হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম সঙ্গ দিতে থাকেন। হাসান, তাইজুল উভয়েই আট রান করে আউট হন। দুই টেলএন্ডার ব্যাটারই এলবিডব্লিউর শিকার হন। যার মধ্যে ওয়ারিকানের আর্ম বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর হাসান রিভিউ নষ্ট করেন। আগের দুই ব্যাটার শান্ত, লিটন রিভিউ নষ্ট করায় বাংলাদেশের তিন রিভিউ শেষ হয়ে যায়। তারাও এলবিডব্লিউ হন।
হাসান, তাইজুল দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশের স্কোর ৪৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান। নাঈম একপ্রান্তে স্বীকৃত ব্যাটারের মতো খেলতে থাকেন। বাজে বল পেলে সুইপে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। প্রথম টেস্ট ফিফটির পর মাত্র দুই রান যোগ করতে পেরেছেন। ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে চেজকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে জশুয়া বিশপের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম। ৯১ বলে ৪ চারে ৫২ রান করে নাঈম ফেরায় বাংলাদেশ ৪৮.৪ ওভারে ১৪২ রানে গুটিয়ে যায়। ২৭ রানের লিডসহ স্বাগতিকদের স্কোর ১৬৯ রান। নাঈমই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার। চেজ ৩৬ রানে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। টেস্টে এই নিয়ে পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে এক ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে যখন আট রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন লাঞ্চ ঘোষণা করা হয়। ওই ওভারেই ক্যাম্পবেলের বিপক্ষে তিনবার এলবিডব্লিউর আবেদন করেন মিরাজ। কোনোবারই আম্পায়ার সাড়া দেননি। এমনকি লাঞ্চ বিরতির পর খেলা শুরু হলে নাঈম-তাইজুলরাও আবেদন করেন। আম্পায়ার সাড়া দেননি। শান্ত দুইবার রিভিউ নিলে আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ওপেনাররা। পুঁজি যখন কম, একেকটা উইকেটের জন্য যেখানে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা, সেখানে রিভিউ নিয়েও উইকেট না পারার হতাশার চিত্র দলীয় শিবিরে।
বরাবরের মতো চতুর্থ দিনে দুপুরেই শেরেবাংলার ফ্লাডলাইট জ্বালানো হয়েছে। বেলা ২টা ১০ মিনিটে চা পানের বিরতি দেয়ার কথা থাকলেও একটু আগেই বিরতি দেয়া হয়। ১৭.৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৮৭ রানে শেষ করে দ্বিতীয় সেশনের খেলা। দলীয় ১১২ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরীফুল ইসলাম। ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে শরীফুলের ভেতরে ঢোকা বল ক্যাম্পবেলের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ৫৫ বলে ছয় চার ও এক ছক্কায় ৪৯ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ব্যাটার। তিন নম্বরে নামা তেজনারায়ণ চন্দরপাল ১৫ বল খেলে এক রান করেন। ২৭তম ওভারের চতুর্থ বলে তাকে ফিরিয়েছেন হাসান মাহমুদ।
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ২৬.৪ ওভারে দুই উইকেটে ১২০ রানে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৫০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন কিং-কাভেম হজ। কিং ১১৫ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৮১ রান। ১১৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন জোমেল ওয়ারিকান। যার মধ্যে প্রথম ইনিংসেই পেয়েছেন পাঁচ উইকেট। প্রথম ইনিংসে চার ক্যাচ মিস করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ক্যাচ ড্রপ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ২৭২
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ২৪৫
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : (আগের দিন ৭৯/৬) ৪৮.৪ ওভারে ১৪২ (জাকের ২২, নাঈম ৫২, হাসান ৮, তাইজুল ৮, শরিফুল ৭*; জোসেফ ১/১৭, ওয়ারিকথান ৪/৬৩, চেজ ৫/৩৬)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ১৭০) ৩৫.১ ওভারে ১৭০/২ (কিং ৮১*, কথ্যাম্পবেল ৪৯, চান্দারপল ১, হজ ৩১*; শরিফুল ১/২০, হাসান ১/১৪)।
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে।
ম্যাচ সেরা : জোমেল ওয়ারিকান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








